Skip to main content

ট্রাম্পের ১০ অঙ্গীকার: এক বছরে প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০ ২০২৬, ১৭:২৮ হালনাগাদ: জুন ১৩ ২০২৬, ৩:০২

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

  • 0

অভিবাসন, অর্থনীতি, জ্বালানি, শুল্ক ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেন তিনি। এক বছর পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার চিত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ট্রাম্পের শপথ ভাষণের ১০টি প্রধান অঙ্গীকার এবং এক বছরে তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূরণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।২০ জানুয়ারি ২০২৫ ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের রোটান্ডায়, প্রচণ্ড শীতের কারণে ঘরের ভেতরে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিজেকে দেশের ত্রাণকর্তা হিসেবে তুলে ধরেন

অভিবাসন, অর্থনীতি, জ্বালানি, শুল্ক ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেন তিনি। এক বছর পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার চিত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।ট্রাম্পের শপথ ভাষণের ১০টি প্রধান অঙ্গীকার এবং এক বছরে তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

১. বিচার ও আইনশৃঙ্খলা

ট্রাম্প বলেছিলেন বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো বন্ধ করবেন। ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল হতে চেয়েছিলেন ম্যাট গেট্‌জ, তবে সেই মনোনয়ন প্রত্যাখ্যাত হয়।পরে তিনি আরেক ঘনিষ্ঠ অনুগত ব্যক্তি প্যাম বন্ডিকে এই পদে বসান।

এক বছরে অপরাধের হার কমেছে বলে সরকারি পরিসংখ্যান দাবি করলেও, বিরোধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও কর্মকর্তাদের বরখাস্ত নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

বন্ডি অত্যন্ত কঠোরভাবে ট্রাম্পের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করেছেন। প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, “আমরাই ফেডারেল আইন”, এবং আইনি আপত্তি সত্ত্বেও দ্রুত ১৭ জন স্বাধীন ইনস্পেক্টর জেনারেলকে বরখাস্ত করেন।

এরপর ট্রাম্প বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেন তদন্ত শুরু করতে।হুইসেলব্লোয়ার মাইলস টেলর, ২০২০ সালের নির্বাচনী জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ খণ্ডনকারী সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ক্রেবস, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়াজেমস ও ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে।

২. কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক ভোটার

২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ১৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক ভোটারদের ৪৬ শতাংশ সমর্থন পান, যা তার জন্য রেকর্ড।

তবে তার নীতিগুলোই পরে এই জনগোষ্ঠীগুলোর ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

সরকারের সর্বস্তরে ডাইভার্সিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন-ডিইআই কর্মসূচি বাতিল করা হয়। আর অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অভিযানের ফলে লাতিনো কমিউনিটিগুলোর মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রাম্প নিজের মন্ত্রিসভা মূলত শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের দিয়ে সাজান। ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্ক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন–এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের প্রথম ৩০০ দিনে সিনেট যাদের অনুমোদন দিয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ।

এই জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য আলাদাভাবে উপকারে আসবে, এমন কোনো বড় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার কর সংস্কার সবার জন্যই উপকারী হবে।তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের ফলে শ্বেতাঙ্গরা খুব খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

৩. অভিবাসন

শপথের দিনই জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন তিনি। এর ফল হিসেবে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয় এবং প্রায় ১ দশমিত ৯ মিলিয়ন মানুষ স্বেচ্ছা দেশ ছাড়ে।

ট্রাম্প প্রশাসন ‘রিমেইন ইন মেক্সিকো’ নীতি পুনর্বহাল করে, ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ’ বন্ধ করে এবং সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে। এতে সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনা নেমে আসে ১৯৭০–এর দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

একই সঙ্গে মাদক কার্টেলগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করা হয় এবং ১৭৯৮ সালের এলিয়েন এনেমিজ অ্যাক্ট প্রয়োগ করে ভেনেযুয়েলার নাগরিকদের এল সালভাদরের একটি বিশাল কারাগারে পাঠানো হয়। ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত আইনে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আটককেন্দ্র সম্প্রসারণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৭০ বিলিয়ন ডলার।

তবে এই কড়াকড়ি নীতির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে ডেমোক্র্যাট শাসিত শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড ও আইসিই মোতায়েনের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, এমনকি অ্যামেরিকান নাগরিক গ্রেপ্তারের অভিযোগ সামনেআসে। জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে এক অভিযানে রেনি গুড নামের এক নারী নিহত হলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকদেরমতে, অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প কিছু জরিপে ইতিবাচক সমর্থন পেলেও, সমালোচকদের দাবি হলো এই নীতি অনেক ক্ষেত্রেই সীমা ছাড়িয়েছে।

৪. অর্থনীতি

ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও, জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি। দায়িত্ব নেওয়ার সময় অ্যামেরিকায় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ শতাংশ। ডিসেম্বরপর্যন্ত এক বছরে ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে এটি সামান্য উন্নতি হলেও স্থায়ী মূল্যস্ফীতির ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

অর্থনীতির অন্যান্য সূচক ছিল মিশ্র। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রকৃত জিডিপি বার্ষিক ভিত্তিতে বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেশি।

কর্মসংস্থান মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে; ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রযুক্তি কোম্পানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের জোরে শেয়ারবাজার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তবে এসব ইতিবাচক সূচক সত্ত্বেও, ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনার সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট অ্যামেরিকানদের হার তুলনামূলক কম।

১২ ও ১৩ জানুয়ারি পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ অর্থনীতি সামলাতে ট্রাম্পের ভূমিকা অনুমোদন করেছেন। এটি দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে পাওয়া ৪২ শতাংশ সমর্থনের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

৫. জ্বালানি

‘ড্রিল, বেবি, ড্রিল’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ট্রাম্প ‘এনার্জি ডমিন্যান্স’ নীতি অনুসরণ করেন। তার প্রশাসনের সময়ে অ্যামেরিকা বিশ্বের শীর্ষ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয় এবং একই সঙ্গে নিট রপ্তানিকারকও হয়ে ওঠে। ফ্র্যাকিং উৎসাহিত করা এবং খননের সুযোগ সম্প্রসারণের নীতির ফলে রেকর্ড উৎপাদন অর্জিত হয়। এ সময়ে তেল ও গ্যাস খননের অনুমোদন ৫৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

দায়িত্বে ফেরার প্রথম দিনই ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যামেরিকাকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেন।এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি অ্যামেরিকাকে আরও ডজনখানেক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বের করে নেন।এর মধ্যে রয়েছে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, যে চুক্তির ওপর বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে।

৬. শুল্ক

ট্রাম্প ‘শুল্ক’ শব্দটিকে তার সবচেয়ে প্রিয় শব্দ বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং এটিকে অ্যামেরিকার উৎপাদন খাতকে আবার দেশে ফিরিয়ে আনার মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখান। একই সঙ্গে শুল্ক ছিল তার সবচেয়ে ব্যবহৃত কূটনৈতিক অস্ত্র।

২ এপ্রিল, যেদিন তিনি “লিবারেশন ডে” নাম দেন, সেদিন তিনি সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করেন এবং প্রায় ৯০টি দেশ থেকে আসা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসান।এসব শুল্ক আরোপের যুক্তি হিসেবে তিনি ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন।তবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য আদালতে গিয়ে দাবি করে, ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। বিষয়টি এখন অ্যামেরিকার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত চাইলে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করতে পারে এবং যে অ্যামেরিকান আমদানিকারকরা এই শুল্ক পরিশোধ করেছে, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে।

অনেকেই যে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছিলেন, শুল্কনীতি তা ডেকে আনেনি। তবে এটি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি করেছে, এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

৭. সরকারি ব্যয় ও ডিওজিই

ট্রাম্প তার ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সবচেয়ে বড় দাতা, বিলিয়নিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ককে ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি-ডিওজিইর দায়িত্ব দেন।এর ফলে হোয়াইট হাউসে একের পর এক আলোচিত ও বিস্ময়কর উপস্থিতি দেখা যায়। এমনকি কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স-সিপিএসি মাস্ককে একটি চেইনস হাতে উপস্থিত হতে দেখা যায়।ডিওজিইরলক্ষ্য ছিল ফেডারেল সরকারের ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানো। তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত আর্থিক প্রভাব নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে এবং তা যাচাই করাও কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে ট্রিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেখানে সমালোচক ও নজরদারি সংস্থাগুলো বলছে—এই উদ্যোগের ফলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া এবং বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারীকে একযোগে চাকরিচ্যুত করা।

৮. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

ট্রাম্প যেসব আইন প্রতিষ্ঠানকে তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখেছেন, তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেন।এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি চুক্তি বাতিল করা হয় এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়—এর মাধ্যমে বহু মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়।একই সময়ে হার্ভার্ড ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ ফেডারেল তহবিল স্থগিত করা হয়। ইহুদি বিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) ও ডাইভার্সিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন-ডিইআই নীতি নিয়ে বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে পাঠ্যক্রম ও নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।ট্রাম্পমূলধারার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। তিনি বিবিসি, সিবিএস/প্যারামাউন্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক টাইমস–এর মতো সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।পাশাপাশি ফেডারেল কমিউনিকেশন্স কমিশনের-এফসিসি ওপর চাপ দেন সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের জন্য এবং কিছু গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করেন। একই সঙ্গে তিনি ‘মাগা মিডিয়া’ কে সক্রিয়ভাবে প্রচার করেন।এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ব্যঙ্গশিল্পী স্টিফেন কোলবার্টকে সিবিএস থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে ব্যাপক জনরোষের মুখে এবিসি আবারও কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেলকে তার অনুষ্ঠানে ফিরিয়ে আনে।

৯. লিঙ্গ ও পরিচয়নীতি

ট্রাম্প দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অ্যামেরিকার স্কুলগুলো থেকে তিনি যাকে চরমপন্থী জেন্ডার আদর্শবাদ ও ক্রিটিক্যাল রেস থিওরি-সিআরটি বলে আখ্যা দিয়েছেন, তা সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।তিনি সরকারি নীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন—লিঙ্গ মাত্র দুটি: পুরুষ ও নারী। একই সঙ্গে অ্যামেরিকান পাসপোর্ট থেকে নন-বাইনারি ‘এক্স’ (জেন্ডার নিরপেক্ষ) অপশন বাতিল করা হয়।এছাড়া ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ১৯ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের জন্য জেন্ডার-অ্যাফার্মিং চিকিৎসা বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। যা দেশজুড়ে প্রতিবাদ সৃষ্টি করে।

১০. পররাষ্ট্রনীতি

নির্বাচনী প্রচারণায় আগের প্রেসিডেন্টদের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করলেও, ক্ষমতায় এসে উল্টো পথে হাঁটেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।তার নির্দেশে ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলা চালানো হয়। সবচেয়ে নাটকীয় পদক্ষেপ আসে ২০২৬ সালের শুরুতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাসের পর মাস সামরিক প্রস্তুতির পর ভেনেযুয়েলায় বোমা হামলা চালানো হয় এবং দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়।এছাড়া কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান, শক্তি প্রয়োগে গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত এবং ইরানে আরও হামলার বিকল্প খোঁজার মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ে। ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি বারবার রাশিয়ার পাশে দাঁড়ান এবং আটটি যুদ্ধ শেষ করার দাবি করেন, যা বিতর্কিত।বিশ্লেষকদেরমতে, ট্রাম্প নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরলেও তার নীতিতে বিশ্বে ঐক্যের বদলে ভয় ও বিভাজনই বেড়েছে।

এক বছর পর স্পষ্ট, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ সমর্থকদের কাছে শক্ত অবস্থানের প্রতীক হলেও, সমালোচকদের মতে এতে অ্যামেরিকার ভেতরে ও বাইরে বিভাজন আরও গভীর হয়েছে।শপথের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ব্যবধানই এখন তার শাসনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।