Skip to main content

হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছে ইরান

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭ ২০২৬, ১৩:৫৫

হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছে ইরান
  • 0

ইরান যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি “সম্পূর্ণ উন্মুক্ত”করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার জানিয়েছেন, সব বাণিজ্যিক জাহাজ নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।

ইরান যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি “সম্পূর্ণ উন্মুক্ত”করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার জানিয়েছেন, সব বাণিজ্যিক জাহাজ নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের বন্দর ও সমুদ্র সংস্থার নির্ধারিত রুট অনুযায়ী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি “পুরোপুরি উন্মুক্ত” বলে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আগে ইরানের কার্যত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতার জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির জবাবে অ্যামেরিকা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। অ্যামেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, এই অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পেরেছে। এমনকি বৃহস্পতিবার একটি পাকিস্তান পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগর ছাড়ে—যা চলমান সংকটের মধ্যে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

তবে সাম্প্রতিক এই ঘোষণা বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ফলে সরবরাহ চেইন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমতে পারে।

এদিকে অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এখনো বড় কিছু ইস্যু অমীমাংসিত রয়েছে—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্য।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে। কারণ জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি আবারো খুলে দেওয়ার ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তি দিলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টেকসই না হলে এবং পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবারও সংকটের মুখে পড়তে পারে। আর সেটিই নির্ধারণ করবে— মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক থাকবে, নাকি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত হবে।