সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদকে অপমান ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রতি আক্রমণের অভিযোগে তিউনিসিয়ার এক শ্রমিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিউনিসিয়ান লিগ ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান ও অন্য আইনজীবীরা শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।
বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিউনিসিয়ায় এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড নজিরবিহীন, যেখানে প্রেসিডেন্ট সাইদ ২০২১ সালে প্রায় সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ জোরদার করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫৬ বছর বয়সী সাবের চৌচানে শ্রমিক, যিনি দেশটির নিয়মিত নাগরিক। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সামান্য।
আইনজীবী ওসামা বৌথালজা রয়টার্সকে জানান, গত বছর গ্রেপ্তার হওয়ার সময় কেবল প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছিলেন আসামি।
তার ভাষ্য, নাবিউল আদালতের বিচারক সাবেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন, যা বেদনাদায়ক ও নজিরবিহীন।
আইনজীবী জানান, আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য নিতে পারেনি রয়টার্স।
তিউনিসিয়ার আদালত কখনও কখনও মৃত্যুদণ্ড দিলেও তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে কারও প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।
সাবেরের ভাই জামাল চৌচানে ফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমাদের পরিবার দারিদ্র্যপীড়িত। এ দারিদ্র্যের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে নিপীড়ন ও অন্যায়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালতের এ আদেশের সমালোচনার পাশাপাশি বিদ্রূপ করেছেন অ্যাকটিভিস্টি ও সাধারণ তিউনিসীয়রা।
অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের আদেশের মাধ্যমে সাইদ তার সমালোচকদের মনে ভয় ধরাতে চাইছেন।
তারা সতর্ক করেন, এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের টুটি আরও চেপে ধরতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনাকে প্রগাঢ় করতে পারে।