ওয়াশিংটন পোস্ট–এবিসি নিউজ–ইপসসের জরিপ
ট্রাম্পের জনসমর্থন দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮ ২০২৬, ১৭:১২ হালনাগাদ: অক্টোবর ১৮ ২০২৬, ১৮:৩২
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে, যা তাঁর প্রথম মেয়াদের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে। একই সময়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভোটারদের পছন্দের প্রশ্নে রিপাবলিকানদের চেয়ে ৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্ট–এবিসি নিউজ–ইপসসের নতুন জরিপে এসব চিত্র উঠে এসেছে। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপটি করা হয়েছে নভেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে।
জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট, আর ৬৬ শতাংশ অসন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছেন। জুলাইয়ের তুলনায় তাঁর অনুমোদনের হার কমেছে ৪ শতাংশ পয়েন্ট, আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৮ পয়েন্ট। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৩৮ শতাংশ; অসন্তুষ্ট ৬২ শতাংশ।
কংগ্রেসের ভোটে ব্যবধান বাড়ছে
কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে কাকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে সম্ভাব্য ভোটারদের ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে এবং ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যেও ব্যবধান একই—ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৫০ শতাংশ, রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪২ শতাংশ। জুলাইয়ের জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটিও সরাসরি যুক্ত হয়ে উঠেছে। জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৫৮ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ট্রাম্পের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস চান। বিপরীতে, তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসকে সমর্থন করেছেন ৩৯ শতাংশ।
তবে এই ব্যবধানকে নির্বাচনের নিশ্চিত ফল হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। হাউযের আসনগুলোতে স্থানীয় প্রার্থী, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন এবং ভোটার উপস্থিতি ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জরিপের বিশ্লেষকরাও সতর্ক করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের এই পছন্দের হিসাব দিয়ে আলাদা আলাদা আসনের ফল নির্ভুলভাবে অনুমান করা যায় না।
অর্থনীতি ও জ্বালানির ব্যয় বড় উদ্বেগ
ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ অর্থনীতি। তাঁর অর্থনীতি পরিচালনায় অনুমোদনের হার নেমে এসেছে ২৮ শতাংশে। জুলাইয়ে তা ছিল ৩৩ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ৪১ শতাংশ এবং ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই সময়টিতে ছিল ৪৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে অসন্তোষজনক বলেছেন প্রায় প্রতি চারজন আমেরিকানের তিনজন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ শতাংশ বলেছেন, ২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় এখন তাঁদের আর্থিক অবস্থা খারাপ। ১৯৮৬ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট–এবিসি এ ধরনের জরিপ শুরু করার পর কোনো প্রেসিডেন্টের সময়েই এই অনুপাত এত বেশি ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিকভাবে চাপে থাকা উত্তরদাতাদের ৭৮ শতাংশ কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন; স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই হার ৭১ শতাংশ।
পরিবারগুলোর ব্যয়ের চাপ সবচেয়ে স্পষ্ট জ্বালানির দামে। ফেব্রুয়ারিতে ৭১ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন, পেট্রোলের দাম তাঁদের সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে। নতুন জরিপে একই অনুপাতে—৭১ শতাংশ—বলেছেন, পেট্রোলের দাম এখন তাঁদের সামর্থ্যের বাইরে। প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ও পরিবহনে বিঘ্ন এবং পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়াকে
এই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নিত্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও বাড়ির জ্বালানির ব্যয় নিয়েও অধিকাংশ উত্তরদাতা অসন্তোষ জানিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসননীতিতেও অসন্তোষ
জরিপে পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়াকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। আমেরিকার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন ৬৮ শতাংশ।
অভিবাসননীতিতেও সমর্থন কমেছে। প্রায় ১০ জনের ছয়জন ট্রাম্পের অভিবাসননীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৫৬ শতাংশ মনে করেন, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কঠোর হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে, বহিষ্কার কার্যক্রমের শুরুতে এই মত দিয়েছিলেন ৪৮ শতাংশ।
অর্থনীতির প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আস্থাও বেড়েছে। কংগ্রেসে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪০ শতাংশ অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর আস্থা জানিয়েছেন, আর রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রেখেছেন ৩৩ শতাংশ। ওয়াশিংটন পোস্ট–এবিসি জরিপে ২০১৪ সালের পর এই প্রথম অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটরা এমন সুবিধা পেলেন।
তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়লেও দলটির প্রতি অসন্তোষ একেবারে কম নয়। জরিপে আমেরিকার প্রাপ্তবয়স্কদের ৫৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট পার্টি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জানিয়েছেন। রিপাবলিকান পার্টির ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি—৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ বিরোধী দল হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধা পেলেও তাদের প্রতি জনসমর্থন সর্বজনীন নয়।
ভোটার উপস্থিতিই হতে পারে নির্ধারক
জরিপটি ৯ থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে অনলাইনে পরিচালিত হয়। এতে আমেরিকার ২,৫৪৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। সামগ্রিক ফলাফলের ত্রুটিসীমা প্রায় ২ শতাংশ পয়েন্ট; নিবন্ধিত ও সম্ভাব্য ভোটারদের হিসাবের ক্ষেত্রে তা ২ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।
ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের ৭৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ভোট দিতে নিশ্চিত অথবা ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৬৭ শতাংশ। তবে ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা ৭৫ শতাংশ; আন্দোলনের বাইরের রিপাবলিকানদের মধ্যে তা ৫৭ শতাংশ।
এদিকে, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের দিক থেকে রিপাবলিকানদের সামগ্রিক সুবিধা রয়েছে। দলটির নেতারা ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থক এলাকাতেও প্রার্থীদের সুরক্ষায় অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জরিপের চিত্রে ট্রাম্পের জনসমর্থন, অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। তবে শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করবে ভোটাররা কতটা অংশ নেন এবং প্রতিটি আসনে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা কীভাবে এগোয় তার ওপর। নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান বাড়লেও, এই জরিপ একা নভেম্বরের ৩ তারিখে কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা নিশ্চিত করে না।
