ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প
- 0


প্রকাশিত: জুলাই ১৪ ২০২৬, ১৩:৫৩
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনাও অ্যামেরিকার লক্ষ্যবস্তু হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে এবং খুব শিগগিরই ওই স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে।
সোমবার রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বত ধ্বংস করব। ইরানকে প্রস্তুত থাকতে বলুন।” তার দাবি, অ্যামেরিকা স্থাপনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, “তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা ভালো নয়। যখনই আমরা সেখানে কোনো কার্যক্রমের খবর পাই, তখনই সেটি ধ্বংস করে দিই। তাই তারা এখন এ বিষয়ে কথা বলতেও চায় না। তবে খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।”
কি কারণে গুরুত্বপূর্ণ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন?
বিশ্লেষকদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা। এটি নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এই কমপ্লেক্সে একাধিক ভূগর্ভস্থ টানেল রয়েছে, যেগুলো এতটাই গভীরে যে অ্যামেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমাও সেখানে কার্যকর নাও হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ধরে রাখতে এই স্থাপনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে, একই দিনে ট্রাম্প আরও ঘোষণা দেন, অ্যামেরিকা আবারও পারস্য উপসাগরে ইরানি নৌযানের ওপর কার্যত অবরোধ জোরদার করবে এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অ্যামেরিকা নেবে এবং এর জন্য অন্যান্য দেশের কাছ থেকে অর্থও আদায় করা হবে।
হিউ হিউইটের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “আজ রাতে আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব। আগামীকালও একইভাবে আঘাত হানব। আর এটা ঠেকানোর মতো কিছুই তাদের করার নেই।”
গত কয়েক দিনে অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় একাধিক হামলা চালিয়েছে অ্যামেরিকা। পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে অ্যামেরিকান সামরিক স্থাপনা এবং জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এখন শুধু ইরানের সামরিক সক্ষমতা নয়, বরং দেশটির অবশিষ্ট পারমাণবিক অবকাঠামোকেও সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
