ইরানে ‘কঠোর হামলার’ হুমকি ট্রাম্পের, জ্বালানি অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ চায় অ্যামেরিকা
- 0


প্রকাশিত: জুন ১১ ২০২৬, ১৬:০৯
ইরানের বিরুদ্ধে “খুব কঠোর” সামরিক হামলার ঘোষণা দিয়েছেন অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন তিনি। যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর নতুন এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “অ্যামেরিকা আজ রাতেই ইরানে খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে।” তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে।
এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে ট্রাম্প বলেন, অদূর ভবিষ্যতে অ্যামেরিকা খার্গ দ্বীপ এবং ইরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং ভেনেযুয়েলার মতো দেশটির তেল ও গ্যাসের বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।
খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২ শতাংশ। এর বড় অংশই যায় চায়নায়।
পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্ট যদি কোনো “অপরিকল্পিত পদক্ষেপ” নেন, তাহলে তার জবাব আরও কঠোর ও বেদনাদায়ক হবে।
এদিকে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণ নিয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও অস্থির হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের মাঝেও আলোচনা
সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনটি ইরানি সূত্র এবং পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
আলোচনায় এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি।
এক ইরানি সূত্রের ভাষায়, “সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুদ্ধ একটি অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ইরানে হামলা চালিয়ে অ্যামেরিকা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে।”
অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি চান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হোক।
নতুন হামলা ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের আগে বৃহস্পতিবার অ্যামেরিকা ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অ্যামেরিকান সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে। পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থানরত অ্যামেরিকান নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর।
এরই মধ্যে নতুন এক কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে ভারতের সঙ্গে। ওমান উপকূলে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ অবরোধের সময় অ্যামেরিকান হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ভারতীয় নাবিক থাকা অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে অ্যামেরিকান নৌবাহিনী।
