জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিদ্রূপ ট্রাম্পের

এহসান জুয়েল, নিউ ইয়র্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩ ২০২৫, ২৩:৫৭ হালনাগাদ: নভেম্বর ৭ ২০২৫, ২:১২

ব্রাজিলের অ্যামাজোনাস রাজ্যের মানাউসের সান ফ্রান্সিসকো দো মেইনা এলাকায় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ব্যাপক খরার মধ্যে খাদ্য ও পানি নিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায় লোকজনকে। ছবি: রয়টার্স

ব্রাজিলের অ্যামাজোনাস রাজ্যের মানাউসের সান ফ্রান্সিসকো দো মেইনা এলাকায় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ব্যাপক খরার মধ্যে খাদ্য ও পানি নিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায় লোকজনকে। ছবি: রয়টার্স

  • 0

ট্রাম্প বলেন, বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য ‘বোকারা তৈরি করেছে’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন হলো ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতারণা’।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সংস্থাটির কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

সাধারণ বিতর্কের প্রথম দিন মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না সংস্থাটি।

জলবায়ু পরিবর্তন, পশ্চিমা বিশ্বের মুক্ত অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ধ্বংসের পথে যাচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সবার আগে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে হবে বলেও শর্ত দেন তিনি।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ট্রাম্পের বক্তব্যের শুরুতেই তার অটোপ্রম্পটারটি আটকে যায়। এতে লিখিত বক্তব্যের পরিবর্তে ৫৬ মিনিটের এক ভাষণ দেন তিনি, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার গুণ বেশি।

বক্তব্যে তিনি জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং নানা বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প প্রথমেই জানতে চান, ‘জাতিসংঘের উদ্দেশ্য আসলে কী?’

তার অভিযোগ, শান্তিচুক্তি ও সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘ কোনো ভূমিকা রাখেনি; বরং জাতিসংঘের কোনো সহায়তা ছাড়াই সাতটি যুদ্ধ বন্ধে তিনি এককভাবে ভূমিকা রেখেছেন। একাধিক চুক্তিতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন।

তার ভাষায়, দুঃখজনকভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কোনো চেষ্টা পর্যন্ত করেনি। তারা কেবল শক্তভাবে লেখা চিঠি পাঠায় আর ফাঁকা বুলি ছোড়ে।

ট্রাম্প আরও বলেন, অনেকে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে চায়, কিন্তু তিনি সেটা নিয়ে ভাবেন না। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি যা করেছেন, তা জাতিসংঘের করার কথা ছিল, কিন্তু জাতিসংঘে তার আসার পথে যে এসক্যালেটরটি ছিল, সেখানেও সমস্যা পেয়েছেন।

ভাষণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সময় ট্রাম্প ব্যয় করেন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ব্যঙ্গ করার জন্য।

তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য ‘বোকারা তৈরি করেছে’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন হলো ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতারণা’।

তিনি পরিবেশবাদীদের বিদ্রূপ করে বলেন, তারা সব গরু মেরে ফেলতে চান।

ট্রাম্প জানান, অ্যামেরিকা ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে’ এবং এখন ‘পরিষ্কার, সুন্দর কয়লা’ রপ্তানি করছে।

তিনি দাবি করেন, অ্যামেরিকা আর বিশ্বের কাছে ঠকছে না।

একপর্যায়ে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প দাবি করেন, পশ্চিমা দেশে মুসলিম নেতারা শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

পাশাপাশি তিনি খ্রিষ্ট ধর্মকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত ধর্ম’ অভিহিত করেন।

তিনি বিশ্বনেতাদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, অ্যামেরিকা এআই ভ্যারিফিকেশনের মাধ্যমে জৈবিক অস্ত্র কনভেনশন কার্যকর করার উদ্যোগ নেবে।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে তিনি আর ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনায় অগ্রসর হবেন না।

পশ্চিমা দেশগুলোর ফিলিস্তিনকে দেওয়া স্বীকৃতির বিষয়টিকে তিনি হামাসকে পুরস্কার দেওয়ার মতো ঘোষণা বলে মন্তব্য করেন।