ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য জেলেনস্কিকে দায়ী করার পাশাপাশি আমেরিকায় ডিজেলের উচ্চমূল্যের জন্যও তাঁর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলেনস্কি। একই সময়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একটি ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে কিয়েভও রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ হতে হবে পারস্পরিক এবং এর পক্ষে কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
ট্রাম্প জেলেনস্কিকে যুদ্ধ বন্ধে যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগে সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে আমেরিকায় ডিজেলের উচ্চমূল্যের জন্যও তাঁকে দায়ী করেছেন তিনি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দেশের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইউক্রেনের জনগণের।
এদিকে, রাশিয়ার ভ্লাদিমির শহরে ইয়ানডেক্সের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে কেউ হতাহত হয়নি। রুশ সংবাদমাধ্যম অ্যাস্ট্রার তথ্য অনুযায়ী, হামলার কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন শহর ছাড়াও কাজাখস্তান, বেলারুশ ও আর্মেনিয়ায় ইয়ানডেক্সের কয়েকটি সেবা ব্যাহত হয়। চার দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনায় এটি তৃতীয় হামলা।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। আহত হয়েছেন ৩০ জনের বেশি; তাঁদের মধ্যে আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি জ্বালানি ও প্রযুক্তি অবকাঠামোর ওপরও চাপ বাড়ছে।