


প্রকাশিত: অক্টোবর ৯ ২০২৫, ১৯:১০

হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত হওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করে গাজার এক বালিকা। ছবি: রয়টার্স
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে শান্তি কাঠামোর প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাস সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সে অনুযায়ী, গাজায় থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে কারামুক্ত হবেন ফিলিস্তিনি বন্দিরা।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে গত সপ্তাহে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা প্রকাশের পর ঘোষণাটি এলো। তার এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল, হামাসসহ বিভিন্ন পক্ষ।
গাজায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি যুদ্ধে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়, যে ঘটনাকে অনেক আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের একটি কমিশন গণহত্যা বলেছে।
যুদ্ধবিরতির বিষয়ে পাওয়া তথ্যগুলো জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
কী ঘটেছিল বুধবার?
ট্রাম্প জানান, গাজায় তার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস।
নিজ সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে গ্রিনিচ মান সময় বুধবার ২৩টা ১৭ মিনিটে এক পোস্ট দেন ট্রাম্প।
এতে তিনি জানান, গাজায় থাকা সব বন্দি ‘অতি দ্রুত’ মুক্তি পাবেন এবং চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল তার সেনা সরিয়ে সম্মত হওয়া একটি রেখায় নেবে।
এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প রিপোর্টারদের জানান, তার পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে এ সপ্তাহান্তেই মধ্যপ্রাচ্য সফরে যেতে প্রস্তুত তিনি।
হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০ দফা প্রস্তাব প্রথম প্রকাশ করেন ট্রাম্প। একে তিনি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের রোডম্যাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হয় বুধবার হোয়াইট হাউসের একটি ঘটনায়। সেক্রেটারি অব স্টেইট মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসের কক্ষটিতে প্রবেশ করে ট্রাম্পকে একটি নোট দেন।
নোটটি পড়ে ট্রাম্প রিপোর্টারদের বলেন, ‘সেক্রেটারি অব স্টেইট আমাকে এইমাত্র একটি নোট দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চুক্তির খুব কাছে আমরা এবং দ্রুতই আমাকে দরকার হবে তাদের।’
অনুষ্ঠান শেষ করে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে কিছু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা ও সমাধানের জন্য আমাকে এখন যেতে হবে।’
সংক্ষিপ্ত বার্তার একটি ছবি অনুযায়ী, ট্রাম্পকে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়, যাতে করে চুক্তির বিষয়ে প্রথম ঘোষণাকারী হতে পারেন তিনি।
উভয় পক্ষের সম্মতির বিষয়ে ট্রাম্প ঠিক কী জানিয়েছেন?
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় থাকা ইসরায়েলি সব বন্দিকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে। ইসরায়েল তাদের সেনা প্রত্যাহার করে সম্মত হওয়া একটি রেখায় নেবে। এগুলো হবে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে প্রাথমিক ধাপ। সব পক্ষের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হবে।
ওই সময় ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারী কাতার, মিসর ও তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান।
সংঘাত বন্ধে আট মাস ধরে চেষ্টার পর যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার ঘোষণা গাজায় সমর সংক্রান্ত ট্রাম্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্রেকথ্রু।
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তার পররাষ্ট্র নীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হবে গাজায় যুদ্ধের অবসান।
