প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ওয়াশিংটন যেভাবে হামলা পরিচালনা করেছে, তা হয়তো কিছুটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। ওহাইওতে নির্বাচনীয় জনসভার ভাষনে তিনি জানান, তেহরানের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক সরিয়ে দেয়াতে, ওয়াশিংটন এখন এমন কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা নেতাকে খুঁজে পাচ্ছে না, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক টেবিলে বসে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কিংবা সমঝোতা করা সম্ভব।
সোমবার ওহাইওর ইয়ংসটাউনে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণার সভায় দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দূরদর্শিতার অভাব ও জটিল পরিস্থিতির কথা উঠে আসে। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা মনে হয় ইরানি নেতাদের টার্গেট করার ক্ষেত্রে কিছুটা বেশিই দূরে চলে গেছি। কারণ সত্যি বলতে, এখন আমরা কার সঙ্গে ডিল বা আলোচনা করছি—তা এখন আর নিজেরাই বুঝে উঠতে পারছি না।’
ডনাল্ড ট্রাম্প আরো দাবি করেন, তেহরানের পরিস্থিতি এখন এতটাই অস্থিতিশীল যে— ইরানের প্রেসিডেন্ট পদে বসতে বা নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে এখন কেউ রাজি হচ্ছেন না।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভাষণে ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি গুড়িয়ে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অ্যামেরিকান অভিযানের ফলে ইরান তাদের পুরো বিমানবাহিনী এবং ১৫৯টি নৌ-জাহাজের সবগুলোই হারিয়েছে।
ট্রাম্প কিছুটা রসিকতার ছলে মন্তব্য করে বলেন, ইরানের সব কটি সামরিক জাহাজ এখন সমুদ্রের তলদেশে ‘সুন্দরভাবে বিশ্রাম নিচ্ছে’।
প্রেসিডেন্টের এই নমনীয় ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের মধ্যেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃটেইনের সামরিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইউকে মেরিন ট্রেড অপারেশনস’ জানায়, চলতি মাসের ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত হরমুযে বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত ১৯টি পৃথক হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিক থেকে ট্রাম্প প্রশাসন চরম সামরিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে কোনো সমঝোতায় আনতে চেয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের একের পর এক বিয়োগান্তক পরিণতি বা অনুপস্থিতির কারণে তেহরানে এখন এমন এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথকে সহজ করার বদলে আরো অনিশ্চিত ও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের সাবেক নিরাপত্তা প্রধান ও শীর্ষ কূটনীতিক আলী লারিজানিকে হত্যার পর তেহরানের কূটনীতিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। এরপর থেকে পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির কূটনৈতিক নেতৃত্বে সরাসরি যুক্ত হন।