অ্যামেরিকায় অবস্থানরত হাজার হাজার অভিবাসীকে ৩১টি দেশে নির্বাসনে পাঠানোর চুক্তি করেছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর পেছনে ব্যয় করা হবে মোট ৪১০ মিলিয়ন ডলার।
৩১টি দেশের মধ্যে বেশিরভাগই হলো আফ্রিকা মহাদেশের দেশ। এর মধ্যে রয়েছে আইভরি কোস্ট, গাম্বিয়া, গিনি, টোগো, গ্যাবনসহ বিভিন্ন দেশ।
এ সংক্রান্ত গোপন অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত বছর শুরু হওয়া ‘দ্য অফিস রিমাইগ্রেশন’-এর আওতায় অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানো হচ্ছে। পরিকল্পনাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক ক্রিশ্চিয়ান এডহার্ট । চলতি বছর জুন মাসে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সফরের মধ্য দিয়ে অভিবাসীদের নির্বাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
তবে গ্রহণকারী এসব দেশ কোনোটিই ফেরত পাঠানোর জন্য নির্বাচিত অভিবাসীদের নিজ দেশ নয়।
ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ দেশ কোস্টারিকা ও ইসোয়াতিনিতে হাজার হাজার অভিবাসীকে পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ইরান, আফগানিস্তান, চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কিউবা ও জ্যামাইকার নাগরিক।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় দেশের জন্য নির্বাচিত অভিবাসীদের মধ্যে আছে ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত সহিংস অপরাধীরা। পাশাপাশি নিজ দেশ ফেরত নিবে এমন অভিবাসীরাও আছেন এই তালিকায়।
তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে, অ্যামেরিকা থেকে তৃতীয় দেশে বিতাড়িত এসব অভিবাসীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। অনেককে ঝুঁকি থাকলেও সেখান থেকে নিজ দেশে ফেরত যেতে বাধ্য করা হয়।
পূর্বে অ্যামেরিকা থেকে বিভিন্ন তৃতীয় দেশে নির্বাসিত অভিবাসীরা জানান, তাদের অনেক সময় মারধরের শিকার হতে হয়েছে। অনেক সময় খাবার, পরিবার ও আইনজীবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এ উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম অংশ হিসেবেই দেখছেন অধিকারকর্মীরা।