নিজ দেশ থেকে পালিয়ে অ্যামেরিকায় আশ্রয় নেওয়া সমকামী শরণার্থীদের, ব্যতিক্রমী যৌন আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ- আফ্রিকার এমন দেশগুলোতে নির্বাসনে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইতোমধ্যে তৃতীয় দেশে নির্বাসিত সমকামীদের ৪০টি ঘটনা সংবলিত নথি পর্যবেক্ষণের পর এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিভিন্ন সময় ভিন্ন যৌন অভিমুখী বৈশিষ্ট্যের কারণে ইরাক, রাশিয়া, জ্যামাইকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পালিয়ে অ্যামেরিকায় আশ্রয় নিয়েছে অনেক শরণার্থী।
প্রথমে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরে জোরপূর্বক আরও ঝুঁকিপূর্ণ তৃতীয় দেশে নির্বাসনে পাঠাচ্ছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ইতোমধ্যে কয়েক ডজন শরণার্থীদের নির্বাসনে পাঠানো তৃতীয় দেশগুলোর মধ্যে আছে আফ্রিকার সিয়েরা লিওন, ক্যামেরুন, এসওয়াতিনি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, গিনি ও কঙ্গো।
এর মধ্যে সিয়েরা লিওন, ক্যামেরুন ও এসওয়াতিনিতে সমকামীতা আইনত নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অন্যদিকে বাকি তিনটি দেশে সমকামীদের তথাকথিত সংশোধনের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও অবৈজ্ঞানিক থেরাপি প্রয়োগের মতো অনেক রেকর্ড আছে।
নির্বাসন সংক্রান্ত এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন অ্যামেরিকান সাবেক উর্ধ্বতন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা ক্লেইরি ট্রিকল্যার ম্যাকনাল্টি। তিনি বলেন, ‘শরণার্থীদের এমন কোনো তৃতীয় দেশে পাঠানো, যেখানে তারা আরও বেশি নীপিড়নের শিকার হন-এটা হলো অ্যামেরিকার সুরক্ষা নীতির উপহাস করা।‘
সমকামী শরণার্থীদের ভিন্ন দেশে স্থানান্তর করা, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শুরু হওয়া অবৈধ অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে নির্বাসনে পাঠানোর পদক্ষেপেরই একটি অংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তৃতীয় দেশে এসব শরণার্থীদের স্থানান্তর তাদের ওপর কোনো জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত নয়।
প্রশাসনের এ দাবিটিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি মামলার আদেশে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সমকামী শরণার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ব্রায়ান মারফি।
তার ভাষ্য, প্রশাসনের দাবিটি অযৌক্তিক। কোনো শরণার্থী আগেই পৃথিবীর প্রত্যেক দেশ সম্পর্কে মতামত দিয়ে রাখবেন-এটা ভাবা বাস্তবসম্মত নয়।
নির্বাসিত শরণার্থীদের অভিজ্ঞতা
গত জুন মাসে সিয়েরা লিওনে নির্বাসিত হওয়া ভুক্তভোগী আবদু লতিফু রয়টার্সকে জানান, তিনি আফ্রিকার আরেক দেশে টোগোর নাগরিক। ২ বছর আগে সমকামি প্রেমের অভিযোগে নিজ দেশে জীবন ঝুঁকি ও সহিংস আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন লতিফ। পরে অ্যামেরিকায় পালিয়ে আসলে দেশটির সরকার তাকে নিজ দেশে পাঠানো নিরাপদ নয় বলে আশ্রয় দেন। তবে চলতি বছরের মাঝামাঝি তাকে জোরপূর্বক এমন একটি দেশে পাঠানো হয়, যা সমকামিদের জন্য আরও বিপজ্জনক।
পরবর্তীতে সিয়েরা লিওন সরকার তাকে টোগোতে ফেরত পাঠালে নিজ দেশে পুনরায় হুমকির শিকার হন লতিফ। বর্তমানে অনেকটা অনিশ্চিত অবস্থায় আইভরি কোস্টে অবস্থান করছেন তিনি।
অন্যদিকে অ্যামেরিকা থেকে ক্যামেরুনে নির্বাসিত অপর এক নারী শরণার্থী জানান, নিজ দেশ ঘানা থেকে পালিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন অ্যামেরিকায়। পরে তাকে ক্যামেরুন নির্বাসিত করা হলে সেখানে সাত মাস অবস্থান করতে পারেন।
ভাষাগত সমস্যার কারণে তাকে আবার ঘানাতেই ফেরত পাঠানো হয়। নিজ দেশে আবারও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে তিনি সবশেষ আশ্রয় নেন নাইজেরিয়ায়। ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, নাইজেরিয়ান সংস্কৃতিতে সমকামিতা কিংবা উভকামিতার শাস্তি হিসেবে পাথর ছুঁড়ে হত্যার মতো প্রথাও প্রচলিত আছে, যা নিয়ে তিনি এখন শঙ্কিত।