এন্টিট্রাস্ট ল লঙ্ঘনের অভিযোগে অ্যামেরিকার ৫টি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-ডিওজে। তদন্ত শুরু হওয়া নেটওয়ার্কগুলো হলো এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি।
ডিওজের মুখপাত্র এমিলি কভিংটন শনিবার এ তথ্য জানান।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধ তীব্র হওয়ার মধ্যে এ তদন্ত শুরু হলো।
এর আগে গত মাসে ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলে তার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় তদন্তাধীন এই ৫টি নেটওয়ার্ক।
হোয়াইট হাউসের যৌথ সংবাদ সংগ্রহব্যবস্থায় বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করে এবং তা অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরবরাহ করে। এ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংকে বিমানবন্দরে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ভিডিও সম্প্রচার করেনি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো।
পরে একটি ফেডারেল আদালত হোয়াইট হাউসকে নিষেধাজ্ঞার শিকার তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর যৌথ সংবাদ সংগ্রহের কার্যক্রম আবারও শুরু হয়।
ডিওজের মুখপাত্র কভিংটন বলেন, ‘টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমগুলোর যৌথ সংবাদ সংগ্রহ দলের সদস্যরা হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানগুলোর সংবাদ সংগ্রহ বর্জন করেছেন। বাণিজ্যিক প্রতিযোগীদের মধ্যে এ ধরনের সম্মিলিত বর্জন শেরম্যান অ্যাক্ট লঙ্ঘন করতে পারে।’
অ্যামেরিকার প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর একটি শেরম্যান অ্যাক্ট। ১৮৯০ সালে প্রণীত এ আইনের আওতায় প্রতিযোগীদের মধ্যে এমন সমঝোতা তদন্ত করা হতে পারে, যা প্রতিযোগিতা সীমিত করে।
কভিংটন আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিযোগিতাবিরোধী আইন বা এন্টিট্রাস্ট অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণ করতেই তদন্ত চলছে।
এবিসি জানিয়েছে, তারা এখনো তদন্তের বিষয়ে কোনো নোটিশ পায়নি, তবে পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, অন্য একটি নেটওয়ার্ক নোটিশ পেয়েছে। সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।