মধ্যবর্তী নির্বাচনের একদিন আগে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার বিতর্কিত ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা থেকে আলাদা রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল সরকারের দাবি, এসব ভোটারের মধ্যে কেউ কেউ অ্যামেরিকার নাগরিক নাও হতে পারেন। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারের তালিকাটি নির্ভরযোগ্য নয় এবং এতে বহু বৈধ নাগরিকের নামও থাকতে পারে।
সোমবার জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের জরুরি আবেদনে সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করা হয়েছে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজন অবৈধ ভোটগুলোকে বৈধ ভোটের সঙ্গে একত্র না করার নির্দেশ দিতে।
এর আগে নিম্ন আদালতগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন নাকচ করা হয়। এক ফেডারেল বিচারক সতর্ক করে বলেছেন, প্রমাণিত নয় এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভোট আলাদা করার চেষ্টা মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক
ট্রাম্পের রিপাবলিকান প্রশাসন চলতি বছর নির্বাচনে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা শনাক্ত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও অ্যামেরিকার নির্বাচনে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা বিরল বলে উল্লেখ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
ক্যালিফোর্নিয়া মূলত ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি। স্টেইটটিতে অক্টোবরের শুরু থেকেই ভোট গ্রহণ চলছে। নিবন্ধিত প্রায় ২৩ মিলিয়ন ভোটারের প্রত্যেকের কাছেই ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয় এবং এরই মধ্যে কয়েকশ হাজার ভোট প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।
ফেডারেল সরকারের দাবি, বিতর্কিত ভোটগুলোর গণনা করার আগে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে স্টেইট কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপে বৈধ ভোটাররাও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এর আগেও জরুরি বিভিন্ন আবেদনে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকটি আইনি সাফল্য পেয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট সীমিত করার প্রেসিডেন্টের আগের একটি প্রচেষ্টা আদালত গ্রহণ করেনি।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে নতুন এই আইনি লড়াই অ্যামেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থা, ভোটারের নাগরিকত্ব যাচাই এবং ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে।