
অ্যামেরিকার ক্রমাগত হুমকির মুখে
যুদ্ধ শুরু হলে ইরান যেসকল কৌশল অবলম্বন করবে

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯ ২০২৬, ২৩:০৫

- 0
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে অ্যামেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়ে আসছে ইরান।
সামরিক শক্তিতে অ্যামেরিকার সমকক্ষ হতে না পারলেও, কীভাবে বড় ধরনের ক্ষতি চাপানো যায়—সেই কৌশলই দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তুলেছে তেহরান।
এমন সময় মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে একটি অ্যামেরিকান এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও প্রয়োজনে ইরানে হামলার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্বে ইসরায়েল ও অ্যামেরিকার হামলায় দুর্বল হলেও ইরানের হাতে এখনো রয়েছে পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো নানা উপায়।
ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নির্ভর করবে তারা এই পরিস্থিতিকে কতটা বড় হুমকি হিসেবে দেখছে তার ওপর। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফারজিন নাদিমির ভাষায়, “যদি তারা এটিকে অস্তিত্বের যুদ্ধ মনে করে, তাহলে তাদের সব সক্ষমতা ব্যবহার করতেও পিছপা হবে না।”
🔴 প্রথম ধাপে: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইরানের হাতে রয়েছে হাজার হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন, যা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত অ্যামেরিকার ঘাঁটি এবং ইসরায়েল—দুটোকেই লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
গত জুনে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার জবাবে ইরান যেভাবে ধারাবাহিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, তা ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ভেদ করতে সক্ষম হয়েছিল। ইরান দাবি করছে, সেই যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রভাণ্ডার তারা ইতোমধ্যেই পুনরায় পূরণ করেছে।
বিশেষ করে ‘শাহেদ’ আত্মঘাতী ড্রোন ইতোমধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের এই অস্ত্রগুলো এখনো বড় হুমকি হয়ে রয়েছে।
🔴 দ্বিতীয় ধাপে: মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করা
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের মিত্র বা প্রক্সি বাহিনী রয়েছে—ইরাক, লেবানন, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে। যদিও সাম্প্রতিক সংঘাতে এই নেটওয়ার্ক কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবুও তারা ইরানকে রক্ষার অঙ্গীকার বজায় রেখেছে।
ইরাকের কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও হারাকাত আল-নুজাবার মতো গোষ্ঠীগুলো অতীতে অ্যামেরিকান বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহও ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। আর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইতোমধ্যেই লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
🔴 তৃতীয় ধাপে: অর্থনৈতিক যুদ্ধ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিশোধ হতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আঘাত হানা।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ—হরমুজ প্রণালী—ইরানের নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি। এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও বিপুল পরিমাণ গ্যাস পরিবাহিত হয়।
ইরান যদি এই প্রণালী বন্ধ করে দেয় বা জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, এমনকি বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তবে এমন পদক্ষেপ ইরানের নিজের অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা দেবে—তাই একে ‘শেষ অস্ত্র’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী বড় যুদ্ধ যদি হয়, সেটি হয়তো তেহরানের রাস্তায় নয়—বরং শুরু হতে পারে হরমুজ প্রণালীর উত্তাল জলরাশিতে। আর সেই সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে। এমনটাই বিশ্লেষণ করা হয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে। মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা নিয়ে শঙ্কা বাড়ার সাথে সাথে গণমাধ্যম ও খবরের শিরোনামে প্রতিনিয়ত স্থান পাচ্ছে ইরান। এ যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়ার মতো না, ইরানের উপর হামলা যেকোনো সময়ে পাল্টে দিতে পারে বিশ্বের বর্তমান চিত্রকে। তবে সে উত্তরের জন্য এখন বিশ্ব মুখিয়ে আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দিকে।