তেলাপোকা মারতে গিয়ে পুরো অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়ে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক নারী। অবাক করা এ ঘটনাটি দেশটিজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ওসান শহরে। আগুনে এক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশের কোঠায় থাকা ওই নারী তেলাপোকা মারার জন্য একটি লাইটার ও দাহ্য স্প্রে মিশিয়ে অস্থায়ী ফ্লেমথ্রোয়ার বানান। কিন্তু শিখা দ্রুত ঘরের অন্যান্য জিনিসে ছড়িয়ে পড়ে, যা থেকে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। আগুন মুহূর্তেই পুরো অ্যাপার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের অন্যান্য অংশেও আগুন লাগে।
দুর্ভাগ্যক্রমে আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন এক ত্রিশোর্ধ্ব নারী। নিহত ওই নারী চীনের নাগরিক এবং স্বামী ও দুই মাসের শিশুকে নিয়ে তিনি ওই ভবনের পঞ্চম তলায় বসবাস করছিলেন।
আগুন ও ঘন ধোঁয়ায় পালানোর পথ বন্ধ হয়ে গেলে, দম্পতি জানালা দিয়ে পাশের ফ্ল্যাটের এক প্রতিবেশীর হাতে তাদের শিশুটিকে তুলে দেন। স্বামী কোনোভাবে পাশের ভবনে নিরাপদে যেতে সক্ষম হন, কিন্তু স্ত্রী তাকে অনুসরণ করার সময় নিচে পড়ে যান। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও, গুরুতর আঘাতের কারণে কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মারা যান।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের দীর্ঘ সময় লেগেছে। ভবনটির নিচতলায় বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং উপরের তলায় ৩০টিরও বেশি ফ্ল্যাট রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবনের অনেক বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্তত আটজন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনায় হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ জানায়, অবহেলার কারণে মৃত্যু এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আগুন লাগানোর জন্য দায়ী ওই নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রস্তুতি চলছে।
সম্প্রতি, তেলাপোকা মারার নানা পদ্ধতির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্লোটর্চ বা ঘরে তৈরি ফ্লেমথ্রোয়ার ব্যবহার।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের পদ্ধতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইতোমধ্যেই এমন বেশ কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, মানুষ এসব উপায়ে তেলাপোকা মারতে গিয়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে ফেলেছেন কিংবা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।