দেশজুড়ে নতুন গাড়ির জ্বালানি দক্ষতার মান কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার নতুন এই মান চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ইউএস ট্রান্সপোর্টেশন ডিপার্টমেন্ট।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন নিয়ম চালু হলে নতুন গাড়ির দাম কমবে। তবে ট্রান্সপোর্টেশন ডিপার্টমেন্টের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে আগামী কয়েক দশকে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বাড়বে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাড়ির জ্বালানি দক্ষতার মান দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। এর মাধ্যমে গাড়ি নির্মাতাদের আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে উৎসাহিত করা হচ্ছিল।
বাইডেন প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ মডেল বছরের গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা প্রতিবছর ৮ শতাংশ করে বাড়ানোর কথা ছিল। ২০২৬ সালে বাড়ানোর কথা ছিল ১০ শতাংশ। এরপর ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ২ শতাংশ করে বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। নতুন প্রস্তাবে ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ির গড় জ্বালানি দক্ষতা ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালন করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে বাইডেন আমলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে নতুন নিয়মে একটি নতুন গাড়ির গড় দাম প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন বেশি জ্বালানি ব্যবহার হতে পারে। এতে মানুষের জ্বালানি খরচ বাড়বে প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারি শন ডাফি এই সিদ্ধান্তকে আমেরিকার গাড়ি শ্রমিকদের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন, নতুন মানের ফলে গাড়ির দাম কমবে।
তবে সাবেক ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারি পিট বুটিগিগ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, জ্বালানি দক্ষতার মান কমানো হলে কম জ্বালানি-সাশ্রয়ী গাড়ি বিক্রি করা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য সহজ হবে। একই সঙ্গে অ্যামেরিকা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনের কাছে পিছিয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাইডেন প্রশাসন অ্যামেরিকার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি সেই লক্ষ্য থেকে ভিন্ন পথে যাচ্ছে।