ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-ডিএইচএস কর্তৃক বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় ওয়াশিংটন ডি. সি'র নিজ আবাসস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর।
গত সপ্তাহে বাড়ি তল্লাশির পর বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সাক্ষাৎকারে একথা জানান তিনি। তল্লাশি চালানোর পর এটি ছিল তার প্রথম সাক্ষাৎকার।
ওমর জানান, বাড়ি তল্লাশির ফলে অনেকের মনোযোগ তৈরি হয়েছে, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় নিজ বাড়িতে থাকতে অনিরাপদ বোধ করছেন না তিনি।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, গত ১২ অক্টোবর ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ এনে তদন্ত চালায় ফেডারেল কর্মকর্তারা।
ওমর জানান, ওইদিন সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, তদন্তকারীরা পরোয়ানা নিয়ে তার দরজায় জোরে ধাক্কা দিচ্ছেন। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তার বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ১৭টি জিনিস জব্দ করেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে ছিল মুঠোফোন, নোটবুক, সোমালি ভাষায় লেখা শিশুদের একটি বই এবং তার স্বামীকে উপহার দেওয়া পুরোনো একটি ক্যামেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ফেডারেল কর্মকর্তা জানান, এ তদন্তের অংশ হিসেবে ওমরের পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে গ্র্যান্ড জুরির কাছে জবানবন্দি দিতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ও পরে আমেরিকান নাগরিকত্ব পাওয়া ইলহান ওমর মিনেসোটা স্টেইটের ডেমোক্র্যাট দলের একজন কংগ্রেস সদস্য। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নিয়মিত সমালোচক।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক আক্রমণেরও লক্ষ্যবস্তু তিনি। ট্রাম্প একাধিকবার তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পক্ষে কথা বলেছেন।
এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে ওমর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির দাবি করে আসছিলেন ট্রাম্প।
ওমর তার বুধবারের সাক্ষাৎকারে দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমি কোনো ভুল করিনি।‘
মামলাটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-ডিওজে। শুধু এটিকে ফৌজদারি তদন্ত বলে উল্লেখ করেছে।