যুদ্ধ বন্ধে অ্যামেরিকা ও ইরান যা বলেছে তা প্রস্তাবিত চুক্তিতে রয়েছে

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৫ ২০২৬, ১৭:১৯ হালনাগাদ: জুন ১৬ ২০২৬, ১৩:১২
- 0
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ঘোষিত প্রাথমিক চুক্তি সম্পর্কে অ্যামেরিকা, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে, তার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ঘোষিত প্রাথমিক চুক্তি সম্পর্কে অ্যামেরিকা, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে, তার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
চুক্তি বাস্তবায়নের ধাপ ও সময়সূচি
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
- অ্যামেরিকা ও ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসান সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, স্বাক্ষরের পর চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে।
- দুই পক্ষই জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অ্যামেরিকার অবরোধ প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
- একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইরানের ওপর অ্যামেরিকান নিষেধাজ্ঞার মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলবে।
হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দর অবরোধ
- প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শুক্রবার থেকেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হবে এবং তিনি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
- এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী “সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য” উন্মুক্ত করা হবে।
- ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রিত হবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি
- অ্যামেরিকা ও ইরান উভয়ই বলেছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই এমন অবস্থানের কথা বলে আসছে।
- এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে এবং নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ করবে না।
- একই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আওতায় ইরান নিজ ভূখণ্ডেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদকে কম সমৃদ্ধ পর্যায়ে রূপান্তর করতে পারবে—এ বিষয়ে অ্যামেরিকা সম্মত হয়েছে।
- ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক উপাদানের মজুদ দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই; পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে তা সংগ্রহ করা হবে।
- তিনি আরও বলেন, যেকোনো চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা থাকবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
- রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে হবে।
নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক বিষয়
- এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করতে অ্যামেরিকা সম্মত হয়েছে।
- তার দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে এবং চূড়ান্ত চুক্তির পর ধাপে ধাপে অ্যামেরিকান ও জাতিসংঘের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
- একই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যামেরিকা ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আর্থিক ঋণসুবিধার বিষয়ও রয়েছে।
- এছাড়া আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতায় ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে ওয়াশিংটন, যা ৬০ দিনের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
- তবে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়া হবে না, যদিও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
লেবানন ইস্যু
- শাহবাজ শরিফ বলেছেন, সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করবে।
- ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবালয় জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ হবে।
- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব অ্যামেরিকার।
- অন্যদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, লেবানন, সিরিয়া এবং গাযায় দখল করা নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনারা অবস্থান অব্যাহত রাখবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এ অবস্থান ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।
- সমঝোতা স্মারক ঘোষণার আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান। তার মতে, লেবাননের ওপর ইসরাইলের আর কোনো হামলা হওয়া উচিত নয়, একইভাবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহরও ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করা উচিত।

