প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে পৃথিবীর বুকে অবতরণ করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের পরবর্তী প্রজন্মের রকেট স্টারশিপ।
স্পেসএক্সের টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের কাছে মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী স্টারবেস কমপ্লেক্স থেকে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে স্টারশিপ। কক্ষপথে ১০ ঘণ্টা পরিভ্রমণের কথা থাকলেও ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান গুটিয়ে ফেলে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়ে ৪০তলা দালানের সমান এ মহাকাশযান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এ যাত্রায় ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক স্টারলিংকের ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন করে স্টারশিপ, যা বাণিজ্যিকভাবে স্পেসএক্সের জন্য বড় সাফল্য। তবে, ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে দ্রুত অবতরণের ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নাসার সঙ্গে মহাকাশযানটির আসন্ন চন্দ্রাভিযান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০২৮ সালে স্টারশিপের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে নভোচারীসহ পা রাখার পরিকল্পনা করছিল নাসা। সব ঠিক থাকলে ১৯৭২ সালে অ্যাপলোর চন্দ্রাভিযানের পর এটি হত চাঁদপৃষ্ঠে মানুষের অবতরণের পরবর্তী রেকর্ড।
ইতোমধ্যে চন্দ্রাভিযানের অংশ হতে নাসার সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের চুক্তিও করেছে স্পেসএক্স। তবে, প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী মহাকাশযানের ইঞ্জিন বিচ্যুতি এখন চন্দ্রাভিযান নিয়েই অনিশ্চয়তার কারণ।
অ্যাকু কম্পোনেন্টসের মহাকাশ প্রকৌশলী ডিন স্লেডেন জানান, স্টারলিংকের অগ্রগতি ছাড়াও স্পেসএক্সের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো নাসার সঙ্গে চাঁদের মাটিতে পা রাখা। এ কথা মাথায় রেখেই স্টারশিপ তৈরি করা হয় বিশালাকার ও শক্তিশালী স্টেইনলেস যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে। একইসঙ্গে নভোচারীদের বহন করতে রকেটটিতে রাখা হয়েছে হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম।
তবে সর্বশেষ সোমবার রকেটটির উৎক্ষেপণকালে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইঞ্জিনের মধ্যে বিকল হয়ে যায় একটি ইঞ্জিন। এ অবস্থায় মহাকাশযানের ঝুঁকি এড়াতে পিছিয়ে যেতে পারে নির্ধারিত সময়ে চাঁদে অভিযানের পরিকল্পনা। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রতিদ্বন্দী মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের মহাকাশযান জায়গা করে নিতে পারে স্টারশিপের স্থান।
এ পরিস্থিতিতে, পুনরায় চাঁদের মাটিতে মানুষ কবে পা রাখতে যাচ্ছে কিংবা কোন মহাকাশযান হবে ইতিহাসের সাক্ষী, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।