Skip to main content

শান্তিচুক্তি নয়, কার উপর নির্ভর করছে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫ ২০২৬, ১৭:৩৫

ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত লেবাননের একটি অঞ্চল। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত লেবাননের একটি অঞ্চল। ছবি: রয়টার্স

  • 0

লেবাননের স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইরান-অ্যামেরিকা শান্তিচুক্তি ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার প্রকোপ আগের তুলনায় কমেছে বলে জানান বাসিন্দারা

শান্তিচুক্তি ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইরান-অ্যামেরিকা যুদ্ধ বন্ধ হলেও, এখনও অনিশ্চিত লেবাননে চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ।

ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে। তবে এ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প লেবানন প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ইরানের সঙ্গে অ্যামেরিকার এই সমঝোতার শর্তে নিজেদের বাধ্য মনে করে না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও দেশটি লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সোমবার বলেছেন, ‘লেবাননের যে অংশ বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও জানান, ওই এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে এবং সামরিক বাহিনী সেখানে বাড়িঘর ধ্বংসের অভিযান চালিয়ে যাবে।

এর একদিন আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কাছে ইসরায়েলি হামলা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য লেবাননে যুদ্ধ বন্ধে অ্যামেরিকা-ইরানের সমঝোতার একরকম মৌখিক বিরোধিতা।

লেবাননের স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইরান-অ্যামেরিকা শান্তিচুক্তি ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার প্রকোপ আগের তুলনায় কমেছে বলে জানান বাসিন্দারা।

এদিকে, লেবাননের কর্তৃপক্ষ এবং হিজবুল্লাহ বাস্তুচ্যুত মানুষদের আপাতত নিজ নিজ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা হাসান রাহাল বলেন, ‘পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। এটি সত্যিকারের যুদ্ধবিরতি কি না, তা নিশ্চিত নয়।‘

আরেক বাসিন্দা হুসেইন জাবের জানান, নিজ গ্রামে ফিরে গিয়ে তিনি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পেয়েছেন। তার ভাষ্য, ‘অনেক বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আমার বাড়িটিও নেই। এই পরিস্থিতিতে পরিবারকে এখানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।‘

চলতি বছর অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধের সূত্রপাত।

প্রয়াত নেতার হত্যার প্রতিবাদে গত ২ মার্চ প্রথম ইসরায়েলে হামলা চালায় ইরান সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। পরে দেশটিতে একের পর এক হামলা ও জায়গা দখল শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলেও লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অনেকটাই নির্ভর করবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পরবর্তী অবস্থানের ওপর।