
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব: ট্রাম্পের চেষ্টা ঠেকাতে নতুন আদেশের চিন্তা

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৮ ২০২৫, ২০:৫২ হালনাগাদ: মার্চ ২ ২০২৬, ৮:২৭

আদালতে রায় দিচ্ছেন বিচারক। ছবি: সিডনি ক্রিমিনাল লইয়ার্স
- 0
গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের এক সিদ্ধান্তের ফলে নিম্ন আদালতগুলোর জন্য হোয়াইট হাউসের নির্দেশ আটকে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর পরও স্টেইটগুলো এমন তাগিদ দিয়েছে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চেষ্টায় আরেকটি ধাক্কা দিতে শুক্রবার বোস্টনের ফেডারেল এক বিচারককে তাগিদ দিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বাধীন কয়েকটি স্টেইট।
গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের এক সিদ্ধান্তের ফলে নিম্ন আদালতগুলোর জন্য হোয়াইট হাউসের নির্দেশ আটকে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর পরও স্টেইটগুলো এমন তাগিদ দিয়েছে।
রয়টার্স জানায়, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ওপর ফেব্রুয়ারিতে দেশজুড়ে স্থগিতাদেশ দেন ডিস্ট্রিক্ট জাজ লিও সরোকিন। সেটি বহাল রাখতে এ বিচারকের প্রতি তাগিদ দেন নিউ জার্সির আইনজীবীরা। তারা ১৮টি স্টেইট ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
স্টেইটগুলোর মামলা ফেরত আনা হয়েছে সরোকিনের আদালতে। এর ফলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের ২৭ জুনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের প্রভাব মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ আদেশটি লিখেন রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট। ওই রায়ে সরোকিনের মতো নিম্ন আদালতের বিচারকদের তাদের রায়ের আওতা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ গত সপ্তাহে আরেকবার আটকে যায় নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক আদালতে, তবে সরোকিনের আদালতে জয় ট্রাম্পের নীতির বিরোধীদের মামলাকে আরও জোরালো করবে। মামলাটি শেষ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে।
নিউ জার্সির আইনজীবী শঙ্কর দুরাইস্বামী সরোকিনকে জানান, সুনির্দিষ্ট একটি মামলায় বিবাদীদের ‘সম্পূর্ণ মুক্তি’ দিতে দেশজুড়ে স্থগিতাদেশই যদি একমাত্র পথ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি অনুমোদনযোগ্য বলে পরিষ্কার করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
দুরাইস্বামী জানান, স্টেইট সরকারগুলোর জন্য বিশাল আকস্মিক পরিবর্তন ঠেকাতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে স্থগিতাদেশই একমাত্র পন্থা।
এ আইনজীবীর মতে, কিছু স্টেইটের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ফলে মেডিকএইডের মতো ফেডারেল সুবিধার কর্মসূচিগুলো পরিচালনা কঠিন হয়ে যাবে।
তার মতে, জোড়াতালি দেওয়া এ পন্থা অভিবাসী মা-বাবাদের মধ্যে সংশয় তৈরি করবে। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক লোক এমন স্টেইটে যাবেন, যেগুলোতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ স্থগিত আছে। এর ফলে সম্পদে টান পড়বে।
দুরাইস্বামীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আইনজীবী এরিক হ্যামিল্টন জানান, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে স্টেইটগুলো।
এমন বাস্তবতায় বিচারক সরোকিন বলেছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে লিখিত আদেশ দেওয়ার চিন্তা করছেন তিনি।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে অ্যামেরিকার ফেডারেল সংস্থাগুলোর উদ্দেশে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ নির্দেশনায় ১৯ ফেব্রুয়ারির পর অ্যামেরিকায় জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর মা বা বাবার কেউই অ্যামেরিকার নাগরিক কিংবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হলে শিশুদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিতে বলা হয়।