হরমুয প্রণালি উন্মুক্ত করতে ইরানের দেয়া সাত দিনের পরিকল্পনায় ওয়াশিংটনের সর্বশেষ ফিরতি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। শিগগিরই জবাব পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি— নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, চলমান যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতকরণ এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ মুক্ত করাসহ মোট ৭ দফা দাবিতে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসাথে উপসাগরীয় পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইয়েমেন সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান বাঘেই।
তেহরান- ওয়াশিংটনের চলমান বাকযুদ্ধের মাঝেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। বাঘেই বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও অ্যামিরকার বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন যেসব বিষয় সামনে এনেছে, তা আমরা এখন পর্যালোচনা করছি। পর্যালোচনা শেষ হওয়া মাত্রই আমরা পুনরায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের কাছে আমাদের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠাব।’
সম্প্রতি জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্ততায় ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল বাঘেই। পরবর্তীতে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিক জবাবে পাঠালে, ফিরতি জবাবে নিজেদের বক্তব্য জানায় তেহরান। এ নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি সম্প্রতি কাতার সফর করেন। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের ফিরতি প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনার কথা জানালেন বাঘেই।
হরমুয প্রণালী উন্মুক্ত করতে এদিন ইরানের শর্তগুলোও পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানি এই কূটনীতিক। সাত দিনের এই পরিকল্পনায় ইরানের উত্থাপিত দাবিগুলো নতুন নয়। এরমধ্যে রয়েছে সমুদ্রপথের অবরোধ তুলে নেয়া, সব সীমান্তে সংঘাত বন্ধ জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা। তেহরানের স্পষ্ট বক্তব্য, নিজেদের অধিকার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না তারা।
এদিকে আরব উপদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইয়েমেন সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি এই কূটনীতিক। বাঘেই সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের এই সংঘাত বৃদ্ধির সুযোগ নেবে কেবল ইযরায়েল, যা কোনো মুসলিম দেশের জন্যই কল্যাণকর নয়। ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, ‘ইয়েমেনি এবং সৌদি আরবের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, তার মাধ্যমেই ইয়েমেন সংকটের সমাধান অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। অতীতে, ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি রোডম্যাপের বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। আমরা তখনও জোর দিয়ে বলেছিলাম যে, আপনাদের মধ্যে হওয়া যেকোনো সমঝোতা বাস্তবায়নকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাই।’
তেহরানের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো প্রতিক্রিয়াগুলো পর্যাপ্ত নয়। এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা আরো স্পষ্ট করতে হবে। বিশেষ করে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, পারমাণবিক ইস্যুতে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনায় অংশ নিতে রাজি নয় ইরান।