ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান যুদ্ধ ও কূটনীতি; দুটোর জন্যই প্রস্তুত রয়েছে। রবিবার বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংকালে তিনি— ওয়াশিংটনকে প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। আরাঘচি বলেন, ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা কোনো উপকারে আসবে না।
এদিন রাজধানীতে বিদেশি কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের সামনে সংঘাত নিরসনের বিষয়ে, খোলামেলা মতামত জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে আরাঘচি বলেন, সংঘাতের একমাত্র সমাধান হতে পারে ন্যায় ও ন্যায্যতার ওপর ভিত্তি করে মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা।
একইসাথে পুনরায় আগ্রাসনের পথে ফিরে গেলে কঠিন প্রতিরোধের হুঁশিয়ারিও দেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা যদি আবারো সামরিক বিকল্পের দিকে ফিরে যায়, আমরা আগের চেয়ে আরো ভালোভাবে প্রস্তুত এবং নিজেদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো। তারা যদি কূটনীতির পথ বেছে নেয়, আমরা তৈরি আছি। অ্যামেরিকা অতীতে উভয়ক্ষেত্রেই পরাজিত হয়েছে।’
আরাঘচি বলেন, ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টাও কোনো উপকারে আসবে না। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক আগ্রাসন পুরোপুরি অবৈধ। ফলে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চূড়ান্ত সমাধান দিতে পারে কেবলই মযার্দাভিত্তিক আলোচনা।
এসময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষীক আলোচনায়, সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচণের কথাও তুলে ধরেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরাঘচি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আমাদের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়েছে। আমরা ইরানের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিশ্বাস ও আস্থা তৈরির একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু করেছি, যা বেশ ভালোভাবে এগিয়ে চলেছে।’