ফিলিস্তিনিদের জন্য বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ডের আইন পাসের পর ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি স্বজনদের ফাঁসি হওয়ার শঙ্কায় অধিকৃত গাজার পশ্চিম তীরে শুরু হয়েছে আহাজারি, বিক্ষোভ।
সোমবার গভীর রাতে পাস হওয়া এ আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন পশ্চিম তীরের শহর রামাল্লাহতে মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিবার।
বিক্ষোভকারীরা জানান, নতুন এ আইনে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কারাবন্দীদের ফাঁসি কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মাইসুন শাওয়ামরেহ নামের এক নারী জানান, তার ছেলে মানসুর(২৯) হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ইসরায়েলি কারাগারে আটক আছেন।
তিনি বলেন, ‘নতুন আইনের খবরটি আমার পরিবারে বজ্রপাতের মতো নেমে এসেছে। আমি আমার ছেলে এবং সব বন্দীদের জন্য ভয় পাচ্ছি।’
ইসরায়েলের সামরিক আদালতে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে কোনো ফিলিস্তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।
এ আইনে নেই কোনো আপিল করার সুযোগ বরং ৯০ দিনের ভিতর কার্যকর হবে মৃত্যুদণ্ডাদেশ- ইসরায়েলি পার্লামেন্ট সেনেটে পাস হয়েছে এমন এক অমানবিক আইন।
ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি আইনটির বিরোধিতা করেছে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ আইনের ফলে ইসরায়েলিদের কাছে বন্দী হামাস ও ফিলিস্তিনি জিম্মিদের ফাঁসি হওয়ার প্রবল ঝুঁকি আছে। পাশপাশি আইনটি বৈষম্যমূলক বলেও সমালোচনা করেন তারা।
সমালোচকদের দাবি, আইনটি শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্যই প্রযোজ্য। ইসরায়েলি কর্তৃক ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলে একইরকম সাজা পেতে হবে না।
এদিকে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানায়, গাজার পশ্চিম তীরের সামরিক আদালতে শুধু ফিলিস্তিনিদেরই বিচার করা হয় এবং সেখানে দণ্ডের হার ৯৬ শতাংশ। জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ে একাধিকবার নির্যাতনের তথ্যও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ অবস্থায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান আইনটি মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মহলের চাপে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।