ব্রিটেনের দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে আমেরিকান বাহিনীর ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক–সংক্রান্ত আইনে অপরাধী সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্লুচেস্টারশায়ারের ওয়েলফোর্ড এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ জানায়, বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধের সন্দেহে কয়েকজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করার পর ওয়েলফোর্ড এলাকায় ‘বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি’ ঘোষণা করা হয়েছে।
ওয়েলফোর্ড গ্রামটি ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে। এই ঘাঁটিতে অ্যামেরিকার বিমানবাহিনীও অবস্থান করে। ফেব্রুয়ারি থেকে এটি ইরানের বিরুদ্ধে অ্যামেরিকার সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেখানে বি-১ ল্যান্সার ও বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসের মতো ভারী বোমারু বিমানও রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল (ইওডি) ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি কাছের বিনোদনকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকাটি ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকে প্রস্তুত করা পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে তারা।
ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে গ্লুচেস্টারশায়ারের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জরুরি সেবার কর্মীরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জরুরি সেবা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও জরুরি সেবার কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাসে তিনি সন্তুষ্ট।
তবে কী ধরনের বিস্ফোরক বা কী উদ্দেশ্যে সেগুলো ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।