অস্ত্র বহন,অভিবাসন, ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে রায় দিতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট
ইউএস সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: রয়টার্স
- 0

ইউএস সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: রয়টার্স

প্রকাশিত: জুন ৭ ২০২৬, ১৭:৫৩

চলতি মাসে ব্যক্তিগত অস্ত্র বহন, ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বৈধতা, অভিবাসন ইস্যুসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শীঘ্রই রায় দিতে চলেছে ইউএস সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের নয় মাসব্যাপী বার্ষিক মেয়াদ শেষ হতে চলায় আগামী সপ্তাহজুড়ে মামলাগুলোর রায় দেওয়া হবে।
রায়ের জন্য অপেক্ষাধীন এসব মামলার কয়েকটি অ্যামেরিকার সাংস্কৃতিক যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত বিষয়বস্তু হিসেবে আলোচিত।
মামলাগুলোর একটি হলো, হাওয়াই স্টেইটের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ব্যক্তি মালিকানাধীন জনপরিসরে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা নিয়ে।
অপরটি হলো, অবৈধ মাদক ব্যবহারকারীদের অস্ত্র রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী একটি ফেডারেল আইনকে চ্যালেঞ্জ করা মামলা।
এছাড়াও, আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেইটে নারী ক্রীড়াদলে নারী-ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞাজনিত আইনের বৈধতা নিয়েও রায় দিবে আদালত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্পন্ন সুপ্রিম কোর্টে বেশিরাভগ রায় ডানপন্থী আইনের ভিত্তিতে আসবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যক্তিগত অস্ত্র বহনের অধিকার
হাওয়াইসহ ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যারিল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক ও নিউজার্সি- এ পাঁচটি স্টেইটে ব্যক্তি মালিকানাধীন জনপরিসরে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র বহনে আইনসঙ্গত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
স্টেইটগুলোর আইন অনুযায়ী, ব্যক্তি মালিকানাধীন শপিং মল, রেঁস্তোরা, পানশালা, থিয়েটার, সৈকতসহ বেশ কিছু জায়গায় মালিকের অনুমতি ছাড়া কেউ আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারেন না।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাওইয়ায়ের আইনটির বিরুদ্ধে করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনা শুরু হয়।
শুরু থেকেই মামলারশুনানিতে রক্ষণশীল বিচারপতিরা ইঙ্গিত দেন যে, তারা অস্ত্র অধিকারের পরিধি আরও বাড়াতে প্রস্তুত। তারা হাওয়াইয়ের আইনটির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থী সংগঠনের নেতা হেইলি লরেন্সের মতে, আদালত সম্ভবত হাওয়াইয়ের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করবে।
তা হলে বাকি ৪ স্টেইটেও আইনটি বাতিল বা পরিবর্তিত হতে পারে।
মাদক ব্যবহারকারীদের অস্ত্র অধিকার
চলতি বছর মার্চ মাসে আদালত একটি ফেডারেল আইনের বৈধতা নিয়ে শুনানি করে, যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী আগ্নেয়াস্ত্র বা গোলাবারুদ রাখতে পারবেন না।
এই বিধানটি ১৯৬৮ সালের গান কন্ট্রোল অ্যাক্ট-এর অংশ। এই আইনে অপরাধী, পলাতকসহ কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে অস্ত্র রাখার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
আইনটির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন টেক্সাসের এক ব্যক্তি, যিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি সপ্তাহে কয়েকবার গাঁজা ব্যবহার করেন এবং এই আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনটির বৈধতা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বৈধতা প্রসঙ্গে
আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেইটে সরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ও কিশোরী ক্রীড়া দলে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে আইনত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন আইনটি সমর্থন করে। একইসঙ্গে রয়টার্স জানায়, বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী- অধিকাংশ অ্যামেরিকান ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের তাদের লিঙ্গ পরিচয় অনুযায়ী ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেন, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে।
সুপ্রিম কোর্টের জানুয়ারি মাসের শুনানি ইঙ্গিত দেয় যে, রক্ষণশীল বিচারপতিরা নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইন বহাল রাখবেন।
অভিবাসন সংক্রান্ত মামলা
আগামী সপ্তাহগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি বড় অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার রায় দিবে। একটি হলো জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা। অপরটি হলো,হাজার হাজার হাইতিয়ান ও সিরীয় অভিবাসীর মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচী তথা টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস-টিপিএস বাতিল করার উদ্যোগ।
মামলাগুলোর শুনানি অনুযায়ী, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মামলায় ট্রাম্প প্রশাসন হেরে যেতে পারে। তবে টিপিএস মামলায় তারা জয় পেতে পারে।
