ইউরোপের ছয়টি দেশের সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও ফ্রিজার সিস্টেম সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার সুইডেন, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দোকানগুলোর ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়।
সুপারমার্কেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আহোল্ড ডেলহাইজ ও কোলরুইট জানিয়েছে, রাতের বেলায় সাইবার হামলায় বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের কয়েক ডজন দোকানের হিমায়নব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুইডেনের আইসিএ ও কোপ নামের দুটি সুপারমার্কেট চেইনও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে।
স্টকহোমের আইসিএর একটি দোকানের বিক্রয় ব্যবস্থাপক এংলা ইংওয়াল রয়টার্সকে বলেন, সাইবার হামলায় তাদের সব ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। রাত দুইটার দিকে হামলা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এতে দোকানের সব পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে।
বেলজিয়ামের শীতলীকরণব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফান মোলান্স জানান, হামলাকারীরা ফ্রিজের বাষ্পীভবন যন্ত্রগুলোকে (ইভাপোরেটর) ডিফ্রস্ট বা বরফ গলানোর মোডে চালু করে দেয়। আক্রান্ত যন্ত্রগুলোকে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে তাদের রাতভর কাজ করতে হয়েছে।
বেলজিয়ামে স্পার সুপারমার্কেট পরিচালনাকারী কোলরুইট গ্রুপের পাঁচটি দোকানের ফ্রিজব্যবস্থা ব্যহত হয়েছে। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের সুপারভ্যালু চেইনের ১৩টি দোকানের হিমায়নব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব দোকান থেকে কিছু ঠান্ডা ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
গত মাসেও ফ্রান্সের কয়েক শ সুপারমার্কেটের শীতলীকরণব্যবস্থায় সাইবার হামলা হয়। দেশটির পুলিশ জানায়, হ্যাকাররা এসব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে এবং খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। সোমবারের হামলার সঙ্গে গত মাসে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুইডেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের প্রধান জন বিলো বলেন, দেশটির বিভিন্ন মুদি দোকানে সাইবার হামলার একাধিক ঘটনা নিয়ে তারা কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সুইডেনে এমন অনেক প্রযুক্তিগত যন্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব যন্ত্রের সফটওয়্যার হালনাগাদ ও নিরাপত্তাত্রুটি দূর করা প্রয়োজন।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের গবেষক টম হেগেল বলেন, সাধারণত অর্থ আদায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের হামলা চালানো হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে মুক্তিপণ দাবি না করায় এগুলো নাশকতামূলক হামলা হতে পারে।
তিনি বলেন, খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তু। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, ভবন পরিচালনাব্যবস্থা, নিরাপত্তা ক্যামেরা ও পণ্য বিক্রির যন্ত্র রয়েছে। মুদি ব্যবসায় মুনাফার হার কম হওয়ায় এবং খাদ্যপণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের হামলায় অল্প সময়েই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।