অ্যামেরিকায় চার বছরের মধ্যে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ
- 0


প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮ ২০২৬, ১৬:০৪
অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা অচলাবস্থার মুখে পড়ায় জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি পাম্পে—অ্যামেরিকায় গ্যাসোলিনের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তেলের দামও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার অ্যামেরিকায় এক গ্যালন সাধারণ গ্যাসোলিনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ডলার, যা ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। একদিনেই দাম বেড়েছে ১.৬ শতাংশ—যা এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে তথ্য দিয়েছে অ্যামেরিকান অটোমাবাইল অ্যাসোসিয়েশন বা ট্রিপল এ।
শুধু গ্যাসোলিন নয়, ডিজেলের দাম আরও দ্রুত বাড়ছে। মঙ্গলবার ডিজেলের গড় দাম ছিল ৫.৪৬ ডলার প্রতি গ্যালন, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
তেলের দামের এই উত্থানের পেছনে মূল কারণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে অচলাবস্থা। ইরান ও অ্যামেরিকার মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ট্যাঙ্কার চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মঙ্গলবার ৪ শতাংশ বেড়ে জুলাই ডেলিভারির জন্য ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে ওঠে, যদিও পরে কিছুটা কমে ১০৪ ডলারে নামে। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১০ ডলার বেড়েছে এবং ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো ৪০ শতাংশের বেশি বাড়তিতে রয়েছে।
অন্যদিকে অ্যামেরিকার বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউ টি আই ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে জুন ডেলিভারির জন্য প্রায় ১০১ ডলারে পৌঁছেছে। একই মাসের ডেলিভারির জন্য তেলের দাম এক পর্যায়ে ১১০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বাজারে কিছুটা সমন্বয় দেখা যায়। তবুও সামগ্রিকভাবে তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছেন হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার দিকে। ইরান ও ওমানের মাঝের এই সরু নৌপথ দিয়ে সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো অচলাবস্থা সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহকে প্রভাবিত করে।
শেয়ারবাজারে এর প্রভাব মিশ্র। অ্যামেরিকার এসঅ্যান্ডপি ফাইভ হানড্রেডে সূচক মঙ্গলবার ০.৬ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয় প্রতিবেদন এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এশিয়ার বাজারেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক সামান্য বেড়েছে, তবে জাপানের নিক্কেই ২২৫এ সূচক ১ শতাংশ কমেছে। ব্যাংক অব জাপান সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও কিছু নীতিনির্ধারক যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
ইউরোপেও শেয়ারবাজারে চাপ দেখা গেছে। স্টক্স সিক্স হানড্রেডে সূচক ০.৫ শতাংশ কমেছে।
এদিকে তেলের উচ্চ দামে বড় কোম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে। বৃটিশ তেল কোম্পানি বিপি জানিয়েছে, প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দ্বিগুণ হয়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। কোম্পানিটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল বাণিজ্য থেকে “ব্যতিক্রমী” আয় হয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়া এখন শুধু বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা নয়—বরং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সরাসরি প্রতিফলন। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অচলাবস্থা ও ব্যর্থ কূটনীতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে পাম্পের এই চাপ আরও বাড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তীব্র হতে পারে।
