ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মীসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং শিক্ষার পরিবেশের অবনতির প্রতিবাদে সপ্তাহ ধরেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ করছে স্কুল শিক্ষার্থীরা। টানা বিক্ষোভে হাজারো গ্রেপ্তার, শত শত আহত এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহ পর্যন্ত বিক্ষোভের ঘটনায় দেশটিতে ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অধিকাংশ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করায় শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
গত মাসে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ক্রেতেই শহরের একটি স্কুলে কর্মীসংকটের প্রতিবাদে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে তা প্যারিসের আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। অপর্যাপ্ত শিক্ষক, ভাঙাচোরা ভবন, শ্রেণিকক্ষে তীব্র গরম-ঠান্ডা এবং দীর্ঘ ক্লাসের সময় নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থাকেও জটিল ও অন্যায্য বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার প্যারিসের উপশহর সাঁ-দেনিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেন জলবায়ু ও সামাজিক ন্যায়বিচারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
এদিকে, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ডানপন্থী নেতা মেরিন ল্য পেন দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ফ্রান্স সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা, সহিংসতা ও ভাঙচুর বন্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।