


প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭ ২০২৬, ১৭:৩৩
নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরো তীব্র হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
ভারতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান তীব্র আন্দোলনের মুখে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (AISA) প্রধান নেহা বোরা শনিবার মুক্তি পেয়েছেন। তবে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে। ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়ম ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে রাজধানী দিল্লিতে দিন দিন এই বিক্ষোভ আরও জোরদার হচ্ছে।
মুক্তির পরও দাবিতে অনড় নেহা বোরা
শুক্রবার দিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় শিক্ষার্থী সংগঠনের নেত্রী নেহা বোরাকে। শনিবার জামিনে মুক্ত পেয়েই তিনি পুনরায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচন কমিশনপ্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ (SIR) কর্মসূচি অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানান তিনি।
এক প্রতিক্রিয়ায় নেহা বোরা বলেন, ‘দয়া করে ভারতের জনগণকে রেহাই দিন। জ্ঞানেশ কুমারকে অভিশংসন করুন এবং এসআইআর (SIR) স্থগিত করুন, যাতে দেশের সাধারণ নাগরিকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন এবং তাদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত হয়।’
সিজেপি নেতা অভিজিৎ গ্রেপ্তার
এদিকে নেহা বোরা মুক্তি পেলেও পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শনিবার স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১০ অক্টোবরও তাকে আটক করা হয়েছিল, পরে আদালতের নির্দেশে তিনি জামিন পান।
১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ
আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন (১৩ কোটি) ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।
এর প্রতিবাদে শুক্রবার দিল্লির কেন্দ্রস্থল কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নামেন শত শত বিক্ষোভকারী। নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ চড়াও হয় এবং স্থান থেকেই দেড় শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যায়।
আমজনতা ও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ
পুলিশি দমন-পীড়ন সত্ত্বেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছাপুক এক নারী আন্দোলনকারী বলেন, ‘সরকার ভয় পাচ্ছে যে এই প্রতিবাদ দিন দিন আরও বড় রূপ নেবে। তাই তারা নেতাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় না নামে। কিন্তু কোনো লাভ নেই, আমরা গত ১০ দিন ধরে প্রতিদিনই এখানে আসছি।’
অন্য এক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেন, ‘জনগণ যদি সরকারের কারো পদত্যাগ চায়, তবে তাকে পদত্যাগ করতেই হবে। আমরা পরিবর্তন, শান্তি ও স্বাধীনতা চাই। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা গণতন্ত্র রক্ষা করতে চাই, যে ভিত্তির ওপর আমাদের এই দেশ গড়ে উঠেছে।’
নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক
ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর তোপের মুখে পড়েছে কেন্দ্র। যদিও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবুও নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ভারতজুড়ে এখন তুঙ্গে।
