ওয়েস্ট ব্যাংকে ইসরায়েলি বসতিতে কনস্যুলার সেবা চালু করলো অ্যামেরিকা

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭ ২০২৬, ১৭:১১

বেথলেহেমের নিকটবর্তী ইফরাত বসতিতে শুক্রবার  সরাসরি এই সেবা দেয়া হয়। ছবি: রয়টার্স

বেথলেহেমের নিকটবর্তী ইফরাত বসতিতে শুক্রবার সরাসরি এই সেবা দেয়া হয়। ছবি: রয়টার্স

  • 0

কোনো বসতি এলাকায় গিয়ে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা প্রদান শুরু করেছে অ্যামেরিকান দূতাবাসের ইতিহাসে এই প্রথম

অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাংকে একটি ইযরায়েলি বসতিতে প্রথমবারের মতো কনস্যুলার সেবা শুরু করেছে জেরুযালেমে অবস্থিত অ্যামেরিকান দূতাবাস।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে শুক্রবার বেথলেহেমের নিকটবর্তী ইফরাত বসতিতে সরাসরি এই সেবা দেয়া হয়।

কোনো বসতি এলাকায় গিয়ে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা প্রদান শুরু করেছে অ্যামেরিকান দূতাবাসের ইতিহাসে এই প্রথম। এর আগে ইউএস নাগরিকদের এই কাজের জন্য যেতে হতো জেরুযালেম বা তেল আভিভে।

গত বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্স–এ ইউএস দূতাবাসের দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার পশ্চিম তীরের ইফরাত বসতিতে অ্যামেরিকার নাগরিকদের জন্য নিয়মিত পাসপোর্ট সেবা প্রদান করবেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা।

দূতাবাস আরো জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে বেইতার ইলিত বসতিতেও একই ধরনের সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ওয়েস্ট ব্যাংকের রামাল্লাহ ও অন্যান্য প্যালেস্টাইন শহরে কনস্যুলার সেবা দিয়ে আসছিল অ্যামেরিকান দূতাবাস।

নতুনভাবে চালু হওয়া কনস্যুলার সেবা নিতে আসা ওয়েস্ট ব্যাংকে বসবাসরত অ্যামেরিকান নাওমি শ্রাগর বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি আমাদের মেয়ের জন্মবৃত্তান্ত নথিভুক্ত করতে এবং ওর সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার নিতে।’

নাওমির ভাষ্য,’দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া খুব কঠিন ছিলো, তাই এই উদ্যোগ আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়ক হয়েছে।’

এদিকে দীর্ঘ দিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব বসতিকে অবৈধ বললেও, ইউএস কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতি ও সেবাপ্রদান স্থানীয় ইযরায়েলিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

তাদের মতে, এটি ইসরায়েলি বসতিকে স্বীকৃতির অংশ।

জেরুযালেমে অবস্থিত অ্যামেরিকান দূতাবাসের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স পোস্টে জানায়, এর মাধ্যমে জুডিয়া ও সামারিয়ায় অবস্থানরত অ্যামেরিকার নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তবে প্যালেস্টিনিয়ান অথোরিটি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

তাদের মতে, এটি প্যালেস্টাইনের ভূখণ্ডে ইযরায়েলের দখলদারিত্বকে সরাসরি সমর্থনের সামিল।