কর্নেল ইউনিভার্সিটির একটি ফ্র্যাটারনিটি হাউসে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেইটিশিয়া জেমসের দপ্তরকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এই নিয়োগের কথা জানান হোকুল। গভর্নর জানান, স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির উপর মামলাটি পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে আস্থা হারিয়েছেন তিনি।
এর আগে, ২০২৪ সালে অভিযোগটির প্রাথমিক তদন্ত কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই ভুক্তভোগী মামলা করার পর গত মাসে টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন তদন্তটি পুনরায় শুরু করেন। এই ঘটনায় মূল তদন্ত খুব দ্রুত বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
হোকুল জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর তদন্তটি তদারকি করবে এবং প্রয়োজন হলে গ্র্যান্ড জুরির কাছে প্রমাণ উপস্থাপন করবে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হোকুল বলেন, ‘মামলার কেন্দ্রে থাকা তরুণীর জানার অধিকার রয়েছে যে, তার মামলা সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য পরীক্ষা করা হবে এবং ন্যায়বিচারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ভ্যান হাউটেনের কাছে পাঠানো বার্তার তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।’
মামলাটি আইভি লিগের ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে কর্নেল ইউনিভার্সিটির প্রতিক্রিয়া এবং ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতের নথিতে ওই নারীকে শুধু ‘জেন ডো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি ক্যাম্পাস পুলিশকে জানান, তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। পরে কর্নেলের শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউনিভার্সিটির অভ্যন্তরীণ তদন্তকারীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ইউনিভার্সিটির সাত ফ্র্যাটারনিটি সদস্য, চি ফাই ফ্র্যাটারনিটি ও অন্যদের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই নারীকে প্রথমে মাদক ও অ্যালকোহল দেওয়া হয়। এরপর তিনি আংশিক বা পুরোপুরি অচেতন থাকা অবস্থায় একদল পুরুষ তার সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়ায় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পুরুষদের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য ফ্র্যাটারনিটি সদস্যদের বার্তা পাঠিয়ে ঘটনাটি জানায় এবং অন্যদের অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানায়। তবে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির আইনজীবী তাদের মক্কেলরা যৌন নিপীড়নে অংশ নিয়েছেন বলে অস্বীকার করেছেন এবং একজনের আইনজীবী দাবি করেছেন, তার মক্কেল ওই নারীকে স্পর্শও করেননি।