ফ্রান্সে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, শিক্ষাখাতে অর্থায়ন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আক্রমণ, বল প্রয়োগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়,বিক্ষোভে অন্তত ২০০জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন, যার মধ্যে অনেকেই স্থায়ী আঘাতের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ওপর বল প্রয়োগ সম্পর্কিত ২৪ টি ঘটনায় জড়িত পুলিশের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দেশটির সাঁ-তুঁয়া-লো-মোন শহরে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ চলাকালীন ১৪ বছর বয়সী কিশোর ইডেনকে কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার দিয়ে আঘাত করে দাঙ্গা পুলিশ। ওই আঘাতে কিশোরের চোয়াল ও কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়।
ওই ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের ওপর তদন্ত শুরু হলে ইডেনের আইনজীবি জানান, ভুক্তভোগী কিশোর বিক্ষোভস্থল থেকে কয়েক মিটার দূরে বসে ফোন চালাচ্ছিলেন। এমন সময় একজন পুলিশ তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে পাল্টা লাথি দেয় ইডেন। পরে অপর একজন পুলিশ তার মুখ লক্ষ্য করে কুগার লঞ্চার দিয়ে আঘাত করেন এবং মাটিতে রেখে ফেলে যান। ওই ঘটনায় ইডেনের পরিবার অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছে।
এছাড়াও প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভে গ্রেনেডের আঘাতে হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া, চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার নথি হাতে পেয়েছে রয়টার্স। এসব ভুক্তভোগীরা সবাই কিশোর।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষতিকারক অস্ত্রের ব্যবহার ও গুরুতর হামলার এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
ফ্রান্সের ইতিহাসে হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এ বিক্ষোভে এসব হামলার ঘটনা ২০২৭ সালে নির্বাচনের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, বুধবার এক রেডিও সাক্ষাৎকারে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লঁর নুনেজ দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার বেশিরভাগ ঘটনার সঙ্গেই পুলিশের সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভস্থলে ৭০০জন পুলিশ আহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের ওপর তদন্ত চলাকালীন শিক্ষার্থীদের ওপর স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে।