লুইযিয়ানার একটি ভোটিং সীমানা বিন্যাস বা মানচিত্র বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। যেখানে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ ডিস্ট্রিক্ট তৈরিতে বর্ণবাদ অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ৬-৩ ভোটে দেওয়া এই রায় অ্যামেরিকার ভোটাধিকার আইন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
বুধবার দেওয়া রায়ে আদালতের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেন, লুইযিয়ানার আইনপ্রণেতারা নতুন একটি “মেজরিটি-ব্ল্যাক” ডিস্ট্রিক্ট তৈরির সময় সংবিধানের সমান সুরক্ষা ধারা লঙ্ঘন করেছেন। বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো লিখেছেন, ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট বহাল থাকলেও বর্ণবাদকে ভিত্তি করে ডিস্ট্রিক্ট নির্ধারণ করা বেআইনি হয়েছে।
দশকের পর দশক ধরে অ্যামেরিকায় নির্বাচনী মানচিত্র আঁকার সময় সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে “মেজোরিটি-মাইনরিটি” ডিস্ট্রিক্ট তৈরি করা হতো। তবে নতুন রায়ে আদালত এই পদ্ধতির ওপর কঠোর সীমা আরোপ করেছে।
আলিটো বলেন, এখন থেকে ভোটিং মানচিত্র চ্যালেঞ্জ করতে হলে প্রমাণ করতে হবে, যে কোনো স্টেইট ইচ্ছাকৃতভাবে বর্ণবাদের ভিত্তিতে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার কমানোর চেষ্টা করেছে। শুধুমাত্র বর্ণ ও রাজনৈতিক বিবেচনা আলাদা করা না গেলে সেই মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
রায়ে আরও বলা হয়, সময়ের সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোটদানের ব্যবধান কমেছে, তাই আগের কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন ছিল।
তবে আদালতের উদারপন্থী বিচারপতিরা এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বিচারপতি এলেইনা কাগান ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যত ভোটাধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করে দেবে এবং নির্বাচনী সমতায় বড় ধাক্কা দেবে। তিনি বেঞ্চ থেকেই তার ভিন্নমত পাঠ করেন—যা সাধারণত শক্ত আপত্তির ইঙ্গিত দেয়।
এই রায়ের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হলেও, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্টেইটে নতুন করে ভোটিং মানচিত্র তৈরির আলোচনা শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানরা দ্রুত নতুন সীমানা বিন্যাস অনুমোদন করেছে।
লুইযিয়ানার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ট্রয় কার্টার এই রায়কে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, “এটি এমন বার্তা দিচ্ছে যে অর্জিত অগ্রগতি আইনি ব্যাখ্যার আড়ালে উল্টে দেওয়া যেতে পারে।”
এই মামলার সূত্রপাত ২০২০ সালের আদমশুমারির পর নতুন ভোটিং মানচিত্র নিয়ে বিরোধ থেকে। প্রথমে মাত্র একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ ডিস্ট্রিক্ট রাখায় মামলা হয়। পরে দ্বিতীয় একটি এমন ডিস্ট্রিক্ট তৈরি করা হলে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের একটি দল সেটিকে “বর্ণভিত্তিক গেরিম্যান্ডারিং” বলে চ্যালেঞ্জ করে।