Skip to main content

তাইওয়ান নিয়ে ‘ভুল পদক্ষেপ’ সংঘাত ডেকে আনতে পারে, ট্রাম্পকে শি’র সতর্কবার্তা

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৪ ২০২৬, ১৬:৫৩

তাইওয়ান নিয়ে ‘ভুল পদক্ষেপ’ সংঘাত ডেকে আনতে পারে, ট্রাম্পকে শি’র সতর্কবার্তা
  • 0

বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন চায়নার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে দুই নেতা জানিয়েছেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক সমঝোতার পথ এখনো খোলা রয়েছে।

বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন চায়নার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে দুই নেতা জানিয়েছেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক সমঝোতার পথ এখনো খোলা রয়েছে।

বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে দুই নেতা জানিয়েছেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক সমঝোতার পথ এখনো খোলা রয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির নেতাদের বৈঠক দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠকের একপর্যায়ে শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নটি দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর ইস্যু। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে পরিস্থিতি “অত্যন্ত বিপজ্জনক” হয়ে উঠতে পারে এবং দুই দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের এই অবস্থান নতুন নয়, তবে এত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এমন সরাসরি ভাষা ব্যবহারকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ট্রিভিয়াম চীনর ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক জো মাজুর বলেন, বেইজিং কার্যত ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছে যেন তারা “ভুল পদক্ষেপ” না নেয়।

তবে অ্যামেরিকান পক্ষের সারসংক্ষেপে তাইওয়ানের উল্লেখ ছিল না। বরং সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করা এবং জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টি। প্রতিবেদনে বলা হয়, শি জিনপিং অ্যামেরিকান তেল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর চীনের নির্ভরতা কমানো যায়।

ইরান যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালী এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এই রুট দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানির মূল্য বেড়েছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।

এই বৈঠকের আগে সাউথ কোরিয়ায় গত বুধবার অ্যামেরিকা ও চীনের অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। চীনর ভাষ্যমতে, সেই আলোচনায় “ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফলাফল” এসেছে। এর লক্ষ্য ছিল গত অক্টোবরে হওয়া দুই দেশের মধ্যকার নাজুক বাণিজ্যিক সমঝোতা ধরে রাখা। তখন ট্রাম্প তিন ডিজিটের শুল্ক স্থগিত করেন এবং চীন বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

অ্যামেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার কাঠামো গঠনে অগ্রগতি হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন বড় আকারের বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে এই সফরে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের শীর্ষ নির্বাহীরাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামেরিকা ইতোমধ্যেই প্রায় ১০টি চায়নিজ প্রতিষ্ঠানকে এনভিডিয়ার শক্তিশালী এইচ-২০০ এআই চিপ কেনার অনুমোদন দিয়েছে, যদিও এখনো সরবরাহ শুরু হয়নি।

অন্যদিকে ট্রাম্প এই বৈঠকে কিছুটা চাপে রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে অ্যামেরিকায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকেও সীমিত করেছে।

তবে চীনের অর্থনীতি চাপের মুখে থাকলেও শি জিনপিং একই ধরনের রাজনৈতিক সংকটে নেই। বেইজিং চাইছে অ্যামেরিকা যেন উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি রপ্তানিতে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করে।

অ্যামেরিকা ও চীনের সম্পর্ক এখন একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা, নির্ভরতা এবং উত্তেজনার মধ্যে আটকে আছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে বেইজিংয়ের এই বৈঠক। বাণিজ্যে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও তাইওয়ান ও ইরান যুদ্ধের মতো ভূরাজনৈতিক ইস্যু দুই পরাশক্তির সম্পর্ককে এখনো বড় ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে।