ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন আগামী তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ১৬ হাজার করপোরেট কর্মীকে কাটছাঁট করতে যাচ্ছে। জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে করপোরেট কর্মীদের একটি অংশকে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যামাজনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গ্যালেটি বুধবার এক ব্লগ পোস্টে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি “ব্যবস্থাপনার স্তর কমানো, দায়িত্বের মালিকানা বাড়ানো এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার” প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে কোন কোন ইউনিটে এই ছাঁটাই হবে বা কোথায় চাকরি কমানো হবে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি কোম্পানিটি।
এর আগে অক্টোবরে অ্যামাজন ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিল। গ্যালেটি জানান, তখন কিছু ইউনিটে কাঠামোগত পরিবর্তন শেষ হলেও, অন্যগুলোতে সেই প্রক্রিয়া এখন সম্পন্ন হয়েছে—যার ফলেই নতুন করে চাকরি কমানো হচ্ছে।
কোম্পানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমেরিকা-ভিত্তিক কর্মীদের নতুন পদ খুঁজে নেওয়ার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হবে। যারা নতুন পদে যেতে পারবেন না বা যেতে চান না, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ, পুনর্বাসন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা থাকবে।
অ্যামাজনের সিইও এন্ডি জ্যাসি গত জুনে বলেছিলেন, আগামী কয়েক বছরে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের কারণে কোম্পানির করপোরেট কর্মীসংখ্যা কমবে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেযোস এর কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যয় কমাতে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছেন জ্যাসি।
চলতি সপ্তাহে ঘোষিত এই ছাঁটাই ২০২৩ সালের পর সবচেয়ে বড়, যখন অ্যামাজন ২৭ হাজার চাকরি কমিয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত কোম্পানির আর্থিক দুরবস্থার কারণে নয়। সর্বশেষ প্রান্তিকে অ্যামাজনের মুনাফা প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং রাজস্ব বেড়ে ১৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।
অক্টোবরে ছাঁটাইয়ের পর জ্যাসি বলেছিলেন, চাকরি কমানোর পেছনে অর্থনৈতিক চাপ বা এআই একমাত্র কারণ নয়। তার ভাষায়, “এটা সংস্কৃতির বিষয়। কয়েক বছর ধরে দ্রুত বড় হওয়ায় কর্মীসংখ্যা ও ব্যবস্থাপনার স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।”
এদিকে আমেরিকার শ্রমবাজারেও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত মিলছে। ডিসেম্বরে দেশটিতে নতুন করে যোগ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার চাকরি। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান মহামারির পর অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়ায় এখন নতুন কর্মী নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছে না। পাশাপাশি শুল্কনীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারও নিয়োগে অনীহা বাড়াচ্ছে।
এই সপ্তাহেই অন্যান্য বড় কোম্পানিও চাকরি কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইউপিএস জানিয়েছে, অ্যামাজন থেকে শিপমেন্ট কমে যাওয়ায় চলতি বছর তারা ৩০ হাজার পর্যন্ত অপারেশনাল চাকরি কমাতে পারে। একই দিনে পিনটেরেস্ট জানায়, পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তারা তাদের কর্মীবাহিনীর ১৫ শতাংশের কম ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে।
এদিকে সিয়াটলভিত্তিক অ্যামাজনের শেয়ার বুধবার বাজার খোলার আগে সামান্য বাড়ে।