হামাস-ইযরায়েলের পূর্ণমাত্রার সংঘাত শেষে গাযায় কথিত যুদ্ধবিরতির এক বছর পূর্ণ হলো। তবে সময় গড়ালেও গাযার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ একটুও কমেনি। শনিবার যুদ্ধবিরতির বছর পূর্তির দিনেও উপত্যকাজুড়ে ইযরায়েলি বাহিনীর হামলায় আট বছরের এক শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে কথিত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির নামে গাযার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দখলদার বাহিনী। ইযরায়েলি দখলদারিত্বের ফলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার অবশিষ্টাংশেই এখন বাধ্য হয়ে প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষ, তাঁবু ও বোমায় বিধ্বস্ত ভবনে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্ততায় হওয়া নামকাওয়াস্তের এই যুদ্ধবিরতিকালীন সময়ে ইযরায়েলি হামলায় এক হাজার চার শর বেশি প্যালেস্টিনিয়িান প্রাণ হারিয়েছেন।
হামাসের হাতে বন্দী ইযরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে গত বছর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করে তেল আভিভ। নেতানিয়াহু প্রভাবিত ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্ততায় হওয়া ১০ অক্টোবরের এই ভঙ্গুর চুক্তির সুবাধে গাযা উপত্যকার ৭০ ভাগ এলাকা এখন ইযরায়েলের দখলে। সেই সাথে প্রতিনিয়ত প্রাণঘাতী আগ্রসন তো রয়েছেই।
দীর্ঘ অবরুদ্ধ জীবনে অতিষ্ঠ গাযাবাসীর দম বন্ধ অবস্থা থেকে সিদ্ধান্তমূলক পর্যায়ে গিয়ে ইযরায়েলে এক আকস্মিক অভিযান চালায় প্যালেস্টিনিয়ান স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। নোভা ফেস্টিভালে চালানো ওই হামলায় ১২০০ ইযরায়েলি নিহত হন। একইসাথে ২৫০ জন ইযরায়েলি নাগরিককে বন্দী করে নিয়ে যায়। এরপরই গাযায় নেমে আসে ইতিহাসের ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে দখলদার বাহিনীর গণহত্যামূলক আগ্রাসনে গাযায় নিহতের সংখ্যা এখন ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। শুধুমাত্র তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ১ হাজার চারশ’র বেশি প্যালেস্টিনিয়ানকে হত্যা করেছে দখলদার বাহিনী।
বছর গড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা এখন বিবৃতির মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। গাযাবাসীর প্রশ্ন একটাই এই যুদ্ধবিরতি আসলে কোথায়?