ভিসা নিয়ম কঠোর করল সিঙ্গাপুর, আবেদনকারীদের যা জানা জরুরি

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০ ২০২৫, ১২:২৬ হালনাগাদ: মার্চ ৯ ২০২৬, ২২:৪৪

অভিবাসন ও ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিঙ্গাপুর। ছবি: সিঙ্গাপুর ভিসা

অভিবাসন ও ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিঙ্গাপুর। ছবি: সিঙ্গাপুর ভিসা

  • 0

যদি কোনো উত্তর অস্পষ্ট বা পরস্পরবিরোধী হয়, তবে সম্ভাব্য জালিয়াতি শনাক্ত করা হবে।

বিশ্বব্যাপী ভুয়া ভিসা আবেদনের বিষয়ে উদ্বেগের কারণে সিঙ্গাপুর সরকার ২০২৫ সালে দেশটির অভিবাসন ও ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে একটি মূল পরিবর্তন হলো সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য আবশ্যক যাচাই ফোন চালু করা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, সিঙ্গাপুরে ভিসা আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনের সাথে ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়া, কাজ বা পড়াশোনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল উপস্থাপনার মতো নানা অভিযোগ পেয়েছেন।

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি (আইসিএ) এবং জনশক্তি মন্ত্রণালয় (এমওএম) ২০২৫ সালে একটি কঠোর যাচাইকরণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার লক্ষ্য হল আবেদনকারীদের তথ্য সরাসরি নিশ্চিত করা এবং শুধুমাত্র কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো।

বাধ্যতামূলক যাচাইকরণ ফোন কল কী?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী ভিসার আবেদন জমা দিলে, অনুমোদিত অভিবাসন কর্মকর্তা একটি যাচাইকরণ কলের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন ।

ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদনকারীর প্রদত্ত ব্যক্তিগত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হবে। এই কল বা ভিডিও কলে আবেদনকারীর কর্মসংস্থানের প্রস্তাব, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ভ্রমণ পরিকল্পনা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি জমা দেওয়া নথি এবং আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে প্রশ্নের মাধ্যমে তা খুঁজে বের করা হবে। যদি কোনো উত্তর অস্পষ্ট বা পরস্পরবিরোধী হয়, তবে সম্ভাব্য জালিয়াতি শনাক্ত করা হবে।

যাচাই কলগুলো সাধারণত ফোন বা ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, এবং কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিয়োগকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় বা স্পনসরও এতে অংশ নিতে পারেন।

কাদের যাচাইকরণ ফোন কলের মধ্য দিয়ে যেতে হবে:

এই নিয়মটি ২০২৫ সালে বেশিরভাগ ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছেন, ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিরা , যেমন কর্মসংস্থান পাস (ইপি) বা এস পাস, সিঙ্গাপুরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থী ভিসার জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা, দীর্ঘমেয়াদী ভিজিট পাস আবেদনকারীরা, এমনকি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের পর্যটন ভিসা আবেদনকারীরাও কল পেতে পারেন।

যেসব ভ্রমণকারীর ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কলের সময়সীমা কম হতে পারে অথবা ফোন নাও দেয়া হতে পারে তবে প্রথমবার আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে

আবেদন জমা দেওয়ার পরে আবেদনকারীর কাছে ইমেল বা এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে যে একটি যাচাইকরণ কল নির্ধারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য সময় অঞ্চল বিবেচনা করে একটি সুবিধাজনক সময় স্লট নির্ধারণ করা হবে।

কল চলাকালীন, অফিসার আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সহায়ক নথি সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। যেসব ক্ষেত্রে চাকরি বা শিক্ষাগত দাবির যাচাই প্রয়োজন, কর্মকর্তা সরাসরি নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কলটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে আবেদন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।

তবে যদি কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে আবেদন বিলম্বিত বা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।