তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা শাটডাউনের নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিনা বেতনে কাজ করা ফেডারেল সরকারের কর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর।
শাটডাউনে বেতন না পেয়ে ফুড ব্যাংকের সাহায্য নিতে বাধ্য হচ্ছেন ফেডারেল কর্মীরা।
তা ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্প বন্ধ থাকার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের আদিবাসীদের ওপর। নানাভাবে ফেডারেল সরকারের ওপর নির্ভরশীল নেটিভ অ্যামেরিকানরা।
পিআরআরআইয়ের করা সবশেষ জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের মতে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে ভুল পথে এগোচ্ছে অর্থনীতি।
ফুড ব্যাংকে ভিড়
খাবারের জন্য সরকারের ফুড ব্যাংকে ভিড় করছেন ফেডারেল কর্মীরা। বেতন বন্ধ থাকায় পরিবারের প্রয়োজনীয় খাবারের অভাব পূরণ করতে না পেরে অনেকটা বাধ্য হয়েই ফুড ব্যাংকের সাহায্য নিচ্ছেন তারা।
চেহারা ও পরিচয় গোপন রেখে আক্ষেপের স্বরে এক ফেডারেল কর্মী অভিযোগ করেন, ফেডারেল সরকারের কর্মী ও সেনা সদস্যদের ভার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিত্যপণ্য কেনাকাটাকে কঠিন বলে আখ্যায়িত করেন এ নারী।
তিনি বলেন, এখন যা পাঁচ ডলারে কেনা যাচ্ছে, সেটা পরের সপ্তাহে ১০ ডলার হয়ে যাচ্ছে।
ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে চাকরি করেন গ্রিনবম নামের এক নারী। তিনি নিজেও একসময় ফেডারেল কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাই এমন বাস্তবতা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।
সবাই যেন খাবার পায়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এ স্বেচ্ছাসেবী।
আদিবাসীদের ওপর প্রভাব
নানাভাবে সরাসরি ফেডারেল সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শাটডাউনের একটি বড় প্রভাব পড়ে দেশের আদিবাসীদের ওপর।
আদিবাসীবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান কান্ট্রি টুডের সাংবাদিক এমেলিয়া শেফার বলেন, সরকারে অচলাবস্থার কারণে আদিবাসীরা অন্য কোনো জায়গায় ভ্রমণ পাস পেতে বিড়ম্বনায় পড়েন। এ ছাড়া আইডি পাওয়াসহ বিভিন্ন সেবা পেতে তাদের বেগ পেতে হয়।
ফেসিং হাঙ্গার ফুড ব্যাংকের সিইও সিন্ডি কার্কহার্ট বলেন, শাটডাউনের কারণে বিনা বেতনে অনেক ফেডারেল কর্মী কাজ করে যাচ্ছেন,কিন্তু তাদের সবাইকে চাহিদা অনুযায়ী খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে অল্প খাবার অনেক মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে হচ্ছে।
গবেষণা সংস্থা পাবলিক রিলিজিয়ন রিসার্চ ইনস্টিটিউট-পিআরআরআইয়ের করা সবশেষ জরিপের ফল অনুযায়ী, দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষের মতে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে ভুল পথে এগোচ্ছে অর্থনীতি।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডেভা পার্টনারসের ইকোনমিক পলিসির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর
হেনরিয়াটা ট্রেইজ বলেন, বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের প্রভাব দেশের মানুষের ওপর নানাভাবে পড়ছে।