কক্সবাজারের তরুণদের নির্মিত দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর বারিধারায় ক্যানাডা ক্লাবে। ক্যানাডার হাইকমিশনের সহযোগিতায় যৌথভাবে এ আয়োজন করে উইটনেস ফাউন্ডেশন।
‘ক্যামেরায় গাঁথি শান্তির গল্প’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে চলচ্চিত্র দুটি প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনীতে তরুণ নির্মাতা নাদিয়া হোসেন ও সাজু বড়ুয়া নির্মিত দুটি চলচ্চিত্র উপস্থাপিত হয়।
ক্যানাডা ফান্ড ফর লোকাল ইনিশিয়েটিভস (সিএফএলআই)-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে ১৯৩টি আবেদন থেকে প্রতিযোগিতামূলক বাছাইয়ের মাধ্যমে ১১ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষসহ মোট ২৫ জন তরুণ-তরুণীকে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণকালে তারা চলচ্চিত্র নির্মাণ, গল্প বলার কৌশল, নেতৃত্ব এবং অংশগ্রহণমূলক সুশাসনের ওপর ধারণা অর্জন করেন। পরবর্তীতে মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেরা চিত্রনাট্য তৈরি করে চলচ্চিত্র দুটি নির্মাণ করেন।
এর মধ্যে ‘প্রহর’ চলচ্চিত্রে ভুল তথ্য ও গুজবের জেরে সৃষ্ট সহিংসতার প্রভাব দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে ‘স্বপ্নজয়ী’ চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় একটি পরিবারের বাস্তব জীবন সংগ্রামের গল্প।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ক্যানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং উইটনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী। এছাড়া উইটনেস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শীলা হাফিজা বলেন, তরুণনদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে শান্তিপূর্ন ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ গঠন এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। ক্যানাডা হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিসের পরিচালনায় আলোচনায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রদর্শনী শেষে হাইকমিশনার অজিত সিং তরুণদের নির্মাণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ‘স্বপ্নজয়ী’ চলচ্চিত্রটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি তাঁর দীর্ঘদিন মনে থাকবে।
উল্লেখ্য, তরুণদের ক্ষমতায়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সংহতি নিয়ে কাজ করা উইটনেস ফাউন্ডেশন (পূর্বে ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশন) দেশজুড়ে তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।