পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণ করে তাকে জেলে যেতে হবে। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি যদি আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। তাকে জেলে যেতে হবে এবং সেই আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করলে সরকার প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী অগ্রসর হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাই একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের বিবেচনা করার কিছু নেই।
শেখ হাসিনা বিদেশে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশনে আত্মসমর্পণ করতে পারেন কি না— সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথায় এবং কীভাবে একজন আসামি আত্মসমর্পণ করবেন, সেটি তার নিজস্ব বিষয়। সেটি আমাদের ব্যাপার নয়। যেখানেই আত্মসমর্পণ করুন না কেন, তাকে প্রথমে জেলেই যেতে হবে। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিবৃতির বিষয়ে সরকারের কোনো কিছু বিবেচনা করার নেই।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে এবং তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার পর আইনি প্রক্রিয়াই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার বিষয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি এই বক্তব্যকে আত্মগোপনে থাকা বা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ না করে যে তিনি বিদেশে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন, এগুলো আমি মনে করি রাজনৈতিকভাবে তার আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী পালিয়ে আছেন বা লুকিয়ে আছেন, তাদের চাঙ্গা করার জন্য, উজ্জীবিত করার জন্য বলেছেন। এছাড়া আমি অন্য কোনো কারণ দেখছি না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শেখ হাসিনা কোথায় এবং কখন আত্মসমর্পণ করবেন, তা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে, তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সরকারের দায়িত্ব।