দীর্ঘ দুই বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর সার্বিয়ায় আজ রোববার আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা আলেক্সান্দার ভুসিচের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়ছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের পর এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এ আন্দোলনে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়। তাদের প্রধান দাবি সরকারি জবাবদিহিতা, দুর্নীতির তদন্ত, স্বচ্ছ সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন। তালিকাটির নেতৃত্বে রয়েছেন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ইলিয়া স্রদানোভিচ।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইপসোসের এক জনমত জরিপে ভুসিচের দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি-এসএনএস ৪৭ শতাংশ এবং শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্রার্থীরা ৪০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে অন্য কয়েকটি জরিপে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে।
ভুসিচের সমর্থকেরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দুর্নীতি নির্মূল ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন।
এদিকে আজ সকাল থেকে দেশটির সব ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সের ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ভোটার উপস্থিতি ২০২৩ সালের নির্বাচনের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ভোট দেওয়ার পর ভুসিচ বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত হলে তিনি ভোটারদের রায় মেনে নেবেন।
নির্বাচনে ইভিৎসা দাচিচের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট পার্টি অব সার্বিয়া- এসপিএস, ইউরোপপন্থী বিরোধী জোট এবং কয়েকটি সংখ্যালঘু দলও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর প্রাথমিক ফল ও আসন সংখ্যার অনুমান প্রকাশ শুরু হওয়ার কথা। পর্যবেক্ষক সংস্থা সিআরটিএ জানিয়েছে, তাদের নমুনাভিত্তিক প্রাথমিক ফলের পূর্বাভাস স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার পরে প্রকাশিত হবে।