

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১ ২০২৬, ১২:৫৩

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ভবন।
দুই বছরেরও বেশি সময় শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশী কর্মী নিতে শুরু করছে মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের ৩৩৮টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে আছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।
সব ঠিক থাকলে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় প্রথম দফায় কর্মী পাঠানো শুরু করবে বাংলাদেশ সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে (জিরো কস্ট) নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া।
নতুন ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে। পাশাপাশি চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগ কার্যক্রমও পরিচালনা করতে পারবে তারা।
অন্যদিকে, কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তা দেবে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি। এরপর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করবে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের আওতায় কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং বৈধ ও যোগ্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নির্ধারিত মেডিকেল ফি কত
এদিকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া যাবে না।কোনো মেডিকেল সেন্টার বেশি টাকা দাবি করলে বা হয়রানি করলে মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আপাতত মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে যেগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম বা বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিদর্শন করবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পরিদর্শন শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। নতুন কোনো কেন্দ্র অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা জানানো হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগ্রহী কর্মীরা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন। কোনো একটি মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
