ডে লাইট সেভিং
ট্রাম্পের চাপ সত্ত্বেও স্থায়ী সময় ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সেনেট সন্দিহান
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯ ২০২৬, ১৪:০৪
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জোরালো চাপ সত্ত্বেও ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার বিল নিয়ে সেনেটে অগ্রগতি হচ্ছে না। হাউযে পাস হওয়া বিলটি নিয়ে বছরের শেষ নাগাদ ভোট হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে জানিয়েছেন কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটর। এমন সময়ে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যখন আগামী রোববার ভোরে অ্যামেরিকার অধিকাংশ এলাকায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে হবে। বছরে দুই বার সময় পরিবর্তনের এই দীর্ঘদিনের নিয়মের অবসান চান অনেক নাগরিক। কিন্তু বিরোধীদের আশঙ্কা, শীতকালে স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু থাকলে উত্তরাঞ্চলের কিছু স্টেইটে সকাল ৯টার পর সূর্য উঠতে পারে, ফলে অন্ধকারে স্কুলে যাওয়া শিশু ও কর্মজীবী মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
কিন্তু প্রশ্ন—বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা বদলানোর ঝামেলা দূর করতে যেখানে অনেকেই একমত, সেখানে স্থায়ী সময় ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে এত আপত্তি কেন? মূল বিরোধ হলো, দিনের আলো কোন সময়ে বেশি পাওয়া যাবে। ট্রাম্প ও বিলের সমর্থকেরা বিকেলে বেশি আলো থাকার পক্ষে। বিরোধীরা বলছেন, এতে শীতের সকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকবে, বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু ও ভোরে কাজে বের হওয়া মানুষের জন্য।
হাউযে গত জুলাইয়ে বিলটি ৩০৮-১১৭ ভোটে পাস হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে অ্যামেরিকায় সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু রাখার কথা। কিন্তু সেনেটে বিলটি নিয়ে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। আর নভেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সেনেট আবার অধিবেশনে ফিরলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে বিলটি তোলার সম্ভাবনা কম বলে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন।
এই বিলের সবচেয়ে সোচ্চার বিরোধীদের একজন আরকানসার রিপাবলিকান সেনেটর টম কটন। তাঁর মতে, স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করলে শীতকালে সূর্যোদয় অস্বাভাবিক দেরিতে হবে। এর আগেও কংগ্রেস স্থায়ীভাবে এই সময় ব্যবস্থা চালু করেছিল, কিন্তু জনসমর্থন কমে যাওয়ায় পরে তা বাতিল করা হয় বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সেনেটর মাইক রাউন্ডসেরও আশঙ্কা, শীতের সকালে শিশুরা অন্ধকারে স্কুলে যেতে বাধ্য হবে। ইন্ডিয়ানার সেনেটর টড ইয়ং বলেছেন, সেনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্বের কাছে বিলটি কার্যত গ্রহণযোগ্য নয় বলেই তাঁর ধারণা। ওহাইওর রিপাবলিকান সেনেটর বার্নি মোরেনো আরও সরাসরি বলেছেন, নিকট ভবিষ্যতে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন অবশ্য এ বিল নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান জানাননি, যদিও অতীতে একই ধরনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
ট্রাম্প এই বাধা কাটাতে সরাসরি চাপ প্রয়োগ করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি সামাজিক মাধ্যমে কটনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশ করে তাঁকে বিলটি পাস করানোর নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের যুক্তি, সকালের তুলনায় বিকেলের সূর্যালোক মানুষের বেশি কাজে লাগে। তিনি আরও বলেছেন, বছরে দুবার ঘড়ির সময় বদলানো মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট করে। চলতি সপ্তাহেও নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ স্থায়ী সময় ব্যবস্থা চাইলেও সেনেট বিলটিকে কার্যত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে তাঁর এই চাপ সেনেটরদের অবস্থানে বড় পরিবর্তন আনতে পারেনি।
স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম চালুর চেষ্টা আমেরিকায় নতুন নয়। ১৯৭৩ সালে জ্বালানি সংকটের সময় কংগ্রেস পরীক্ষামূলকভাবে সারা বছর এই সময় ব্যবস্থা চালু করেছিল। কিন্তু একই বছরের অক্টোবরেই তা বাতিল করা হয়। শীতের সকালে অন্ধকারে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় জনসমর্থন দ্রুত কমে গিয়েছিল।
তবু বর্তমান ব্যবস্থার বিরোধিতাও কম নয়। গত বছরের এপি-এনওআরসি জরিপে মাত্র ১২ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা বদলানোর বর্তমান ব্যবস্থা বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন; প্রায় অর্ধেক এর বিরোধিতা করেন। স্থায়ী সময় ব্যবস্থার পক্ষে রয়েছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সেনেটর রিক স্কট এবং ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সেনেটর এড মার্কির মতো আইনপ্রণেতারা। তাঁদের যুক্তি, সময় পরিবর্তনের কারণে ঘুম, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অ্যামেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনও একক সময় ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এখন প্রশ্ন, ঘড়ির কাঁটা বদলানোর নিয়ম শেষ পর্যন্ত বদলাবে কি না। ট্রাম্পের সমর্থন এবং প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে বিল পাস—কোনোটিই এখন পর্যন্ত সিনেটের বাধা কাটাতে পারেনি। আগামী রোববার অধিকাংশ আমেরিকানকে আবারও ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে হবে। আর স্থায়ী সময় ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে অন্তত বছরের শেষ পর্যন্ত।
