ফাউচিকে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করতে সেনেট প্যানেলের ভোট
- 0


প্রকাশিত: আগস্ট ৬ ২০২৬, ১৪:০৬
করোনাভাইরাস মহামারির সময় অ্যামেরিকার সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর সাবেক শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি এস. ফাউচিকে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে অ্যামেরিকার সেনেটের একটি কমিটি। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিষয়টি এখন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বিবেচনার জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন কমিটির চেয়ারম্যান সেনেটর র্যান্ড পল।
সেনেটের ওভারসাইট কমিটিতে ৮-৭ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ফাউচি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী আত্মদোষ স্বীকারে বাধ্য হতে পারেন—এমন আশঙ্কা দেখিয়ে শতাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার অভিযোগ ছিল, কমিটির চেয়ারম্যান র্যান্ড পল ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছেন, যাতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য বা অন্য কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা যায়।
ভোটের পর র্যান্ড পল বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত এখন সরাসরি জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কাছে পাঠানো হবে। জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট চাইলে ফাউচির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে, যদিও আইন অনুযায়ী তাদের এমনটি করতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কংগ্রেস থেকে আসা প্রতিটি সুপারিশ তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে।
ভোটের আগে র্যান্ড পল দাবি করেন, ফাউচির বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলার কোনো ঝুঁকি ছিল না। তার ভাষায়, “তার শুধু সত্য কথাটিই বলা উচিত ছিল।”
অন্যদিকে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাটিক সদস্য গ্যারি পিটার্স এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কংগ্রেসের তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে। সাক্ষী, আদালত এবং জনগণের কাছে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
ভোটের আগের দিন রিপাবলিকান সেনেটর রন জনসন জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে তিনি ফাউচির সরকারি ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের একটি কপি পেয়েছেন। তার দাবি, হেথল এন্ড হিউম্যান সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট ফাউচির কয়েক বছরের ব্যক্তিগত ডায়েরির নথিও তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করেছে। যদিও ফাউচির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
র্যান্ড পল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চায়নার উহানের একটি গবেষণাগার থেকে হয়ে থাকতে পারে এবং এ বিষয়ে ফাউচি কংগ্রেসের কাছে পুরো সত্য প্রকাশ করেননি। তবে ফাউচি বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি ইতোমধ্যে কংগ্রেসের একটি উপকমিটিসহ বিভিন্ন তদন্তে দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং একই প্রশ্নের উত্তর বহুবার দিয়েছেন।
শুনানির শুরুতে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফাউচি বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের মূল উদ্দেশ্য সত্য অনুসন্ধান নয়; বরং যেকোনোভাবে এমন একটি বক্তব্য আদায় করা, যা তাকে কারাগারে পাঠানোর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে বৈধতা দেবে।
ডেমোক্র্যাটিক সেনেটররা ভোটের বিরোধিতা করে বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় জনস্বাস্থ্য খাতে দায়িত্ব পালন করা একজন বিজ্ঞানীকে এভাবে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো দুঃখজনক। তারা আরও অভিযোগ করেন, রিপাবলিকানরা শুরু থেকেই তদন্তকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করেননি এবং ডেমোক্র্যাটিক সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগও সীমিত করেছিলেন।
এদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুনানির শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে ফাউচি তার পঞ্চম সংশোধনীর সাংবিধানিক অধিকার পরিত্যাগ করেছেন—এমন দাবি আদালতে টিকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, প্রয়োজন হলে কমিটি সাক্ষ্য আদায়ের জন্য ক্ষমার পথও বেছে নিতে পারত।
করোনাভাইরাস মহামারির উৎপত্তি ও অ্যামেরিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো থামেনি। সেই বিতর্কের কেন্দ্রেই আবারও উঠে এলেন ড. অ্যান্থনি ফাউচি। তবে কমিটির ভোটের পর জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
