স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি, ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭ ২০২৬, ১৫:৪৪ হালনাগাদ: অক্টোবর ২৭ ২০২৬, ১৬:২৯
বিশ্বের শতাধিক দেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ব্যাপকভাবে অনলাইন বিজ্ঞাপন কিনেছে ইসরায়েলি বিজ্ঞাপনপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেক। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত ছয় ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড মাইক্রোর একটি বিভাগ ট্রেন্ডএআইয়ের গবেষকেরা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালান। তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের দেখানো বিজ্ঞাপন কেনার ক্ষেত্রে ডিসকভার-টেক বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। শতাধিক দেশে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন কেনার দরপত্রে প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষ অবস্থানে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন কেনার এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ পেতে বিজ্ঞাপনদাতারা স্বয়ংক্রিয় নিলামে অংশ নেন। এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীদের কিছু তথ্য দরদাতাদের কাছে চলে যেতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে তাদের শনাক্ত বা অনুসরণ করতে কাজে লাগানো সম্ভব।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব দেশে স্টারলিংক সেবা নিষিদ্ধ বা সীমিত, সেসব দেশের কয়েকটিতেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন কেনার ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল।
এ বিষয়ে স্পেসএক্স কোনো মন্তব্য করেনি। ডিসকভার-টেক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীও গত দুই সপ্তাহে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
গত ১৫ অক্টোবর স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন কেনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রেন্ডএআই। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ না করে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়। ট্রেন্ডএআই জানিয়েছে, ভুল শনাক্তকরণ ও বিভ্রান্তিকর পরিচিতি এড়ানো তাদের অনুসন্ধানপদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্য।
এর আগে কানাডার সিটিজেন ল্যাব ও নিউইয়র্কভিত্তিক কনফিয়েন্টের অনুসন্ধানে ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনের দরপত্র প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও অনলাইন কার্যক্রম অনুসরণের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন শনাক্ত হওয়ার পর গুগল ও কমকাস্টসহ কয়েকটি সংস্থা তাদের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে ডিসকভার-টেককে সরিয়ে দিয়েছে। এদিকে, কর্মীদের লক্ষ্য করে এসব বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আমেরিকার একটি বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
ট্রেন্ডএআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে বিজ্ঞাপন কেনায় শীর্ষে ছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। আফগানিস্তানে ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। এসব দেশে বিজ্ঞাপন কেনার ধরনকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
তবে অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ডিসকভার-টেক। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ও সামরিক কার্যক্রমে স্টারলিংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ব্যবহারকারীদের অবস্থান শনাক্ত ও নজরদারির আশঙ্কা নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
