সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে ব্যবহৃত পরোয়ানাগুলোর আইনি বৈধতা সঠিক ছিল না বলে স্বীকার করেছে থেমস ভ্যালি পুলিশ।
ব্রিটেনের হাইকোর্টে বৃহস্পতিবার এক শুনানিতে পুলিশ জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অ্যান্ড্রুর নরফোক ও বার্কশায়ারের বাড়িতে তল্লাশির আগে যে আইনি বিধানের অধীনে পরোয়ানা নেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক ছিল না। পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রে আদালতের প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল এবং এ কারণে পরোয়ানাগুলো বাতিল করতে হবে।
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে জনসমক্ষে দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের সন্দেহে ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি কোনো ধরনের অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন।
তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত এখনো চলছে। তল্লাশির সময় তার বাড়ি থেকে জব্দ করা নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসও পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারের আগে ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট কিছু নথি প্রকাশ করে। সেসব নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ২০১০ সালে ব্রিটেনের বাণিজ্যবিষয়ক দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি দণ্ডিত যৌন অপরাধী প্রয়াত জেফ্রি এপস্টিনকে গোপনীয় তথ্য পাঠিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারের পর, অ্যান্ড্রুর আইনজীবীরা তল্লাশি ও জব্দ করা সামগ্রী নিয়ে পুলিশের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করেন।
থেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশির আগের দিন তারা ১৯৮৪ সালের পুলিশ অ্যান্ড ক্রিমিনাল এভিডেন্স অ্যাক্টের ৮ ও ৯ নম্বর ধারার অধীনে পরোয়ানার আবেদন করেছিল।
সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্ট তখন সিদ্ধান্ত দেয়, শুধু ৮ নম্বর ধারার অধীনেই পরোয়ানা জারি করা যথেষ্ট। সেই ভিত্তিতেই পরোয়ানা দেওয়া হয় এবং পরদিন অ্যান্ড্রুর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
কিন্তু পরবর্তী আইনি চ্যালেঞ্জে আদালত নির্ধারণ করে, পরোয়ানাগুলো ৯ নম্বর ধারার অধীনে জারি করা উচিত ছিল।
থেমস ভ্যালি পুলিশ এখন স্বীকার করেছে, পরোয়ানা জারির সময় বিচারক যে আইনি শর্তগুলো বিবেচনা করেছিলেন, সেগুলো নিয়ে তিনি যথেষ্ট নিশ্চিত হতে পারেননি।
পুলিশ বলেছে, পরোয়ানা বাতিলের বিষয়টি মূলত আদালতের নেওয়া আইনি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিষয়ে কোনো রায় নয়।
তল্লাশিতে জব্দ করা নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুলিশ কীভাবে ব্যবহার করবে এবং তদন্তের স্বার্থে সেগুলো হেফাজতে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে আলাদা আইনি প্রক্রিয়া চলছে।