
ইরান যুদ্ধ: ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৯ ২০২৬, ১৩:৪৪
- 0
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো পড়েছে বড় অর্থনৈতিক দোটানায়। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে সহায়তা দেবে নাকি বাজেট শৃঙ্খলা বজায় রাখবে—এই সিদ্ধান্ত এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো পড়েছে বড় অর্থনৈতিক দোটানায়। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে সহায়তা দেবে নাকি বাজেট শৃঙ্খলা বজায় রাখবে—এই সিদ্ধান্ত এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে, কারণ তারা আমদানিকৃত তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সরকারগুলোর সামনে এখন কঠিন বাস্তবতা—জ্বালানির বাড়তি খরচ থেকে জনগণকে রক্ষা করতে ভর্তুকি বাড়ানো হলে ঋণের চাপ বাড়বে। আবার ব্যয় কমালে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যেই বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে, যদিও তাতে আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে।
বিভিন্ন দেশের পদক্ষেপ
ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে—
- পর্তুগাল ডিজেলের ওপর কর কমিয়েছে
- গ্রিস জ্বালানি ও কিছু খাদ্যপণ্যে লাভের সীমা নির্ধারণ করেছে
- দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি ভাউচার কর্মসূচি বাড়ানোর চিন্তা করছে
তবে এসব পদক্ষেপ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে এবং মূলত জ্বালানি খরচ কমানোর দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
নতুন সংকটের ঝুঁকি
ইরান যখন কাতার ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, তখন বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সামনে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে সরকারগুলোকে—
- জনগণের খরচ কমাতে সহায়তা করা
- নাকি জনপ্রিয় খাতে ব্যয় কমানো
এতে অনেক দেশকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে।
ইউরোপের চিত্র
ইউরোপ তুলনামূলকভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কম জ্বালানি আমদানি করলেও বিশ্ববাজারে দামের প্রভাব সরাসরি পড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি উৎসের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়বে, যা দাম আরও বাড়াবে।
জার্মানির মতো বড় অর্থনীতি ইতোমধ্যেই সীমিত বাজেট সংকটে রয়েছে। তেলের দাম বর্তমান পর্যায়ে থাকলে দেশটির প্রবৃদ্ধি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
বৃটেইনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, কারণ উচ্চ ঋণ এবং ধীরগতির অর্থনীতির কারণে তাদের ব্যয় বাড়ানো কঠিন।
এশিয়ার পরিস্থিতি
এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল।
- বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল
- থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া ভর্তুকি বাড়াতে গিয়ে ঋণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে
ইতোমধ্যে বাংলাদেশে জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা আসবে। এতে সরকারি ঋণ, মূল্যস্ফীতি এবং প্রবৃদ্ধি—সবকিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।