গত ৩০ জুলাই ৮.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাশিয়ারকামচাটকা উপদ্বীপ। ভূমিকম্পের পরেই কামচাটকাতে আঘাত হানে সুনামি।
ভূমিকম্প, সুনামির রেশ না কাটতেই এবার আরেক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে কামচাটকা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ এবং দেশটির বিজ্ঞানীরা রবিবার জানিয়েছেন, কামচাটকায় ক্র্যাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরির রাতারাতি অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে।
৬০০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জেগে উঠল আগ্নেয়গিরিটি। গত সপ্তাহে রাশিয়ার বিশাল ভূমিকম্পের প্রভাবে আগ্নেয়গিরিটি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কামচাটকা ভলক্যানো ইরাপশন রেসপন্স টিমের প্রধান ওলগা গিরিনাকে উদ্ধৃত করে আরআইএ জানিয়েছে, ৬০০ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত হওয়া ক্র্যাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।
গিরিনা বলেন, বুধবারের ভূমিকম্পের সাথে এই অগ্ন্যুৎপাতের সম্পর্ক থাকতে পারে। ঐ ভূমিকম্পের প্রভাবে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া এবং চিলি পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এরপরেই কামচাটকা উপদ্বীপের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ক্লুচেভস্কয়ের অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
ইনস্টিটিউট অফ ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির টেলিগ্রাম চ্যানেলে গিরিনা জানিয়েছেন, ক্র্যাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরি শেষ লাভা নিঃসরণ ঘটেছিল ১৪৬৩ সালে। তারপর থেকে এই আগ্নেয়গিরিতে কোনও অগ্ন্যুৎপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয়ের কামচাটকা শাখা জানিয়েছে যে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর ৬,০০০ মিটার পর্যন্ত ছাইয়ের কুণ্ডলী উঠে গেছে। আগ্নেয়গিরিটি নিজেই ১,৮৫৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ঐ অঞ্চলে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে কমলা রঙের কোড নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিমানের জন্য তীব্র ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়।